কমলগঞ্জে টিলা কেটে বসতি নিমার্ণের মহোৎসব – প্রতিকারে প্রশাসন নির্বিকার

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়ি টিলা। পর্যটনের পরিচিতিকে পুঁজি করে প্রকাশ্য পাহাড়ী টিলা কেটে রিসোর্টের জন্য বসতি নির্মাণ করছে।

আইনে পাহাড় ও টিলা কাটা নিষিদ্ধ হলে ও প্রকাশ্যে পাহাড় ও টিলা কেটে বসতি নির্মান চললে ও প্রতিকারে রহস্যজনক কারনে প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। এতে স্থানীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থা যেমন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।

জানাযায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের নুরজাহান চা বাগান সংলগ্ন টিপরাবাড়ি মৌজায় প্রকাশ্যে টিলা কেটে রিসোর্ট ও বসতি নির্মান করছেন বাছিত মিয়ার ছেলে মুজিব মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, পর্যটন এলাকা হিসেবে কমলগঞ্জের পরিচিতিকে পুঁজি করে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারী খাস জমির পাশাপাশি পাহাড়ী-টিলা এলাকায় আশপাশের কিছু জমি ক্রয় করেই কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টিলা কেটে বাণিজ্যিক স্থাপনা ও বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন।

বর্ষা মৌসুমে এভাবে টিলা কাটার কারণে মারাত্মক ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাহাড়ি টিলা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও দখলদারদের মাঝে কোনো অনুশোচনা বা ভীতি নেই।

টিপরাবাড়ি মৌজায় টিলা কেটে বসতি নির্মাণকারী বাছিত মিয়ার ছেলে মুজিব মিয়া বলেন, অতিতেও টিলা কেটে বাড়িঘর করেছি, এতদিন কেউ কোনো কিছু বলেনি। আর আজ হঠাৎ করে শুনতেছি টিলা কাটা যাবে না। আমার জায়গায় আমি টিলা কেটে বাড়ী তৈরী করবো দেখি কে কি করে।

জমির মালিক বাছিত মিয়া বলেন,আমার কাগজের জায়গায় আমি কাটতেই পারি। এখানে কারো বাঁধা দেয়ার অধিকার নেই।
স্থানীয়দের এমন বেপরোয়া মানসিকতার সুযোগে বাণিজ্যিক রিসোর্ট মালিকেরাও টিলা সাবাড় করছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পর্যটনের বিকাশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। উপজেলার পাহাড়ি টিলাগুলো এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। এভাবে একের পর এক টিলা বিলীন হয়ে গেলে বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

পাহাড় ও টিলা কাটা রোধ করতে অতি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদ্বীপ তালুকদার বলেন,পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যে-কারোর ব্যক্তিগত জমিও হোক না কেন, টিলা বা পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ দন্ডনীয় অপরাধ।

নুরজাহান চা বাগান বা টিপরাবাড়ি এলাকায় টিলা কেটে রিসোর্ট ও ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।