মো.তাসলিম উদ্দিন সসরাইল( ব্রাহ্মণবাড়িয়া): দীর্ঘ দিন ধরে এই অচলাবস্থা চলায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক শিখন ঘাটতিতে পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে, আর যারা আসছে তারাও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।
যে স্কুলের এই অবস্থা তার নাম সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে । ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও যেন দেখার কেউ নেই।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি স্কুলের শিক্ষক সংকটের কারণে কোন রকম জোড়াতাড়ি দিয়ে চলছে পাঠদান। অনেক দিন ধরে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খন্ডকালীন শিক্ষকদের দিয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান চলছে।
এরপরও এ স্কুল লেখা পড়ার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে তাদের অবদান ধরে রেখেছে।জানাযায়, ১৮৭১ সালে সরাইল অন্নদা সদর এলাকায় প্রায় ৩.৭৩ একর জমির উপর প্রয়াত রায় বাহাদুর অন্নদা প্রাসাদ রায় শিক্ষানুরাগী অন্নদা প্রাসাদ রায় তাঁর নিজের নামানুসারে সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮৬ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ হয়। মূলত স্কুলটি জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকেই যেনে শিক্ষক সংকট লেগেই আছে।শিক্ষক সংকট যেন পিছু ছাড়তে চাইছে না।
এদিকে বিদ্যালয়ে তথ্যে জানাযায়, মুহাম্মদ মুসা মিঞা শারীরিক শিক্ষা, মো. জাকির হোসেন কৃষি শিক্ষা, মো. রেজাউল হক খান, গণিত, মো. হাদিস মিয়া গণিত, মো. কাউসার আহমেদ ব্যবসা শিক্ষা, অপু নাগ- জীব বিজ্ঞান, মো. সোহাগ হোসেন
ভৌত বিজ্ঞান( বিএড প্রশিক্ষণে আছেন) ও সামাজিক বিজ্ঞান দেবব্রত দাস।
প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থাকা একজন, একজন প্রশিক্ষণে, প্রায় সময় একজন থাকেন ছুটিতে।১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ৫ জন শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ বেশিরভাগ পদই শূন্য রয়েছে।শিক্ষক না থাকায় এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বতর্মান ৫-জন শিক্ষক দিয়ে চলছে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান।
এ ব্যাপারে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, স্কুলের ছাত্র সংখ্যা- ৫৩১ জন। শিক্ষক সংখ্যা ১৭ হলেও আছেন নামে মাত্র ৮জন। পাঁচ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান।
অনেক চেষ্টা করেও শিক্ষক সংকট দূর হচ্ছে না।তিনি বলেন, শিক্ষার মান ও পরীক্ষার কাক্সিক্ষত ফলাফল আমরা এখনো ধরে রেখেছি। কয়েক জন খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চলছে। সরাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন,বিদ্যালয়ের শিক্ষক শূন্যতা রয়েছে।
শিক্ষক পদায়ন জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির -এ প্রতিনিধি'কে বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি।
সরকারি এ স্কুলের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত