কমলগঞ্জে দখলমুক্ত করা ৫ একর বনভূমিতে বন বিভাগের বৃক্ষ রোপন

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 days আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জি এলাকায় প্রায় পাঁচ একর বনভূমিতে দখলদারদের থাবায় গড়ে তোলা হয়েছিল অবৈধ কমলার বাগান করেছিলেন। সেই বন ভুমি সম্প্রতি বন বিভাগ উদ্ধার করে ছিল।

অবৈধ দখলমুক্ত করা বনভূমিকে পুনরায় সবুজে ফিরিয়ে আনতে দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা বনভূমিতে নিবিড় বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত বন ভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় বৃক্ষের ২ হাজার ৫শত চারা রোপন করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের সুত্রে জানা গেছে, শুধু অবৈধ দখল উচ্ছেদ করলেই বনভূমি রক্ষা সম্ভব নয়। উদ্ধার করা জমি দ্রুত বনায়নের আওতায় এনে এর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় দখলের সুযোগ বন্ধ করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই কালিঞ্জি এলাকায় পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।

আরো জানা যায়, সিলেট বন বিভাগের রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় দীর্ঘদিন আনুমানিক ৫ একর বনভূমি দখল করে কমলার বাগান গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল। গত ১৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে ওই বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। পরে জমিটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

দখলমুক্ত করার পর বনভূমিটি যাতে আবার দখলের কবলে না পড়ে এবং পতিত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে বনায়নের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্ধার করা বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করে।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের পরিচালন ব্যয় খাতের আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চারা রোপণ করা হয়। রোপণ করা চারার মধ্যে রয়েছে বহেরা, চাপালিশ, কানাইডিঙ্গা, কালাউঝা, অর্জুন, চিকরাশি, রাতা ও জামসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতি।

রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, বনভূমি জবরদখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা কিংবা বাগান করার সুযোগ নেই। উদ্ধার করা বনভূমি যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।।

জবরদখলমুক্ত ভূমিকে দ্রুত বনায়নের আওতায় এনে বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বনায়ন কার্যক্রমে রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ, আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের বিট কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বনকর্মীরা অংশ নেন। তিনি আরো জানান, স্থানটি পুনদখল রোধে এলাকাটিকে নিয়মিত টহল ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে, যেন স্বাভাবিক বনজ পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসতে পারে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী প্রেমীরা বন বিভাগের এই দূরদর্শী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যসংস্থান নতুন রূপ পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর