
আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এখন শুধু টমেটো চাষ নয়, টমেটোর চারা উৎপাদনও হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষি উদ্যোগ।
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নার্সারিতে উৎপাদিত এসব গ্রাফটিং টমেটোর চারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। দূর-দূরান্তের কৃষকেরাও এখন কমলগঞ্জের এসব চারার ওপর নির্ভর করছেন।
জানা যায়,উপজেলার আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে গ্রাফটিং টমেটোর চারার নার্সারি। মৌসুম এলেই এসব নার্সারিতে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। চারা উৎপাদন, গ্রাফটিং, পরিচর্যা, বাছাই ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা।
নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে তিতবেগুন ও টমেটোর আলাদা বীজতলা তৈরি করা হয়। তিতবেগুনের চারা উপযুক্ত হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারা তৈরি হতে প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে।

এরপর স্বাস্থ্যবান চারা বাছাই করে গ্রাফটিং করা হয়। জোড়ার স্থান বিশেষ পলিথিন দিয়ে বাঁধার পর তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ জোড়া লাগে। পরে আরও ১০ থেকে ১২ দিন পরিচর্যার ঘরে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুুত হয় গ্রাফটিং চারা।
কৃষকরা বলেন, গ্রাফটিং করা টমেটোর গাছ সাধারণত সহজে ঢলে পড়ে না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। ফলে গাছ সবল থাকে এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়।
তাদের ভাষ্য, সাধারণ একটি টমেটো গাছে যেখানে পাঁচ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত টমেটো পাওয়া সম্ভব।
এই চারা সুবিধা হলো ভারি বৃষ্টিতেও গাছ টিকে থাকে। স্থানীয় কৃষকেরা দাবী করেন,গ্রাফটিং টমেটো গাছ পানি সহনীয়। ভারি বৃষ্টির সময় সাধারণ টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও গ্রাফটিং করা গাছ তুলনামূলক ভালোভাবে টিকে থাকে।
রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকের মধ্যে এ চারার চাহিদা বাড়ছে। প্রতিটি গ্রাফটিং চারা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে।
এ কাজে যুক্ত শ্রমিকদেরও তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে ১ হাজার থেকে ১২শ টি পর্যন্ত চারা জোড়া লাগাতে পারেন।
গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় কৃষক এম এ করিম জানান, বনবেগুন হচ্ছে টমেটোর একটি জংলি জাত, গ্রাম-গঞ্জে এ বেগুনের হরেক নাম। এই বেগুন চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং।
কৃষকরা আরো বলেন, শুধু মৌলভীবাজার নয়, দেশের আরও ৮ থেকে ১০টি জেলায় চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক কৃষক মৌসুম শুরুর আগেই কতটি চারা প্রয়োজন তা জানিয়ে অর্ডার দেন। চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো চারা সরবরাহ করতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে এক মৌসুমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার লেনদেন হয়। এটি এখন উপজেলার কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। এ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৪৮০জন কৃষক।
‘কমলগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে টমেটো এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানকার গ্রাফটিং টমেটোর চারা দেশের বিভিন্ন জেলা রপ্তানী করা হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করেন,কৃষি বিভাগের সহায়তা, মানসম্মত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নার্সারি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বাড়বে বলে সংশি¬ষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
আজ মহান শিক্ষা দিবস
আজ মহান শিক্ষা দিবস
রাজবাড়ীতে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৮
রাজবাড়ীতে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি...
লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২
লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত,...
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া বার্তা
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া...
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় ইরান: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় ইরান:...
ভুঁইফোড় সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার রোধে আইনমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
ভুঁইফোড় সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার রোধে আইনমন্ত্রীর সতর্কবার্তা