কমলগঞ্জে মাঠে হাল চাষে ব্যস্ত কৃষক, হালের পেছনে মাছ শিকারিদের ভিড়

প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ , ২৭ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা সহ গ্রামাঞ্চলে এখন চলছে আমন ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুুতির কাজ । আউশ ধান ঘরে তোলার পর কৃষকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জমি তৈরি ও আমনের চারা রোপণে। তবে এই কৃষিকাজের ব্যস্ততার মাঝেই গ্রামীণ জনপদে দেখা দিয়েছে ভিন্ন এক দৃশ্য হালচাষের পর কাদামাখা জমিতে দেশীয় মাছ ধরার উৎসব।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে মেশিন(হাল চাষের ট্রাকটার গাড়ী) দিয়ে জমি চাষ করার সময় কাদার সঙ্গে উঠে আসছে শিং, মাগুর, কৈ, পুঁটি, টাকি ও অন্যান্য দেশীয় মাছ। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষিজমির পাশে জড়ো হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ছোট জাল নিয়ে, কেউ ঝুঁড়ি কিংবা পাত্র হাতে আবার কেউবা কাঁদায় নেমে সরাসরি মাছ ধরছেন।

বর্ষার পানি জমে থাকা ধানক্ষেতে দীর্ঘদিন মাছের বিচরণ থাকায় আমন চাষের আগে জমি প্রস্তুুতের সময় এসব মাছ সহজেই ধরা পড়ছে। বিশেষ করে মেশিনে জমি উল্টেপাল্টে চাষ করার সময় কাদার ভেতর থেকে মাছ বেরিয়ে আসায় মুহূর্তেই জমির আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় তৈরি হচ্ছে।

কৃষক জমসেদ মিয়া জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত ও জমিতে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় অনেক জমিতে দেশীয় মাছ দেখা যাচ্ছে। আমনের জন্য জমি প্রস্তুুত করতে গিয়ে মাছ পাওয়া এখন গ্রামের মানুষের জন্য বাড়তি আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষক রাজন মিয়া বলেন, বাড়ির পাশের একটি জমিতে হালচাষ চলার সময় কয়েকজনকে মাছ ধরতে দেখে তিনিও সেখানে যান। কিছু সময় মাছ ধরার পর প্রায় দুই কেজি দেশীয় মাছ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

কৃষক রাখেশ পাল বলেন,আউশ ধান চাষের সময় জমিতে পানি থাকায় মাছগুলো সেখানে আশ্রয় নেয়। ধান কাটার পর আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুুত করার সময় পানির সঙ্গে কাদাও নড়াচড়া করায় মাছগুলো বাইরে চলে আসে। তখন আশপাশের মানুষ মাছ ধরতে মাঠে নেমে পড়েন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.রকিবুল ইসলাম জানান,আমনের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫৫৩ হেক্টর। এরই মধ্যে অধিকাংশ এলাকার আউশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখন আমন আবাদকে কেন্দ্র করে জমি প্রস্তুুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে।

এদিকে কৃষিজমিতে দেশীয় মাছের উপস্থিতি আনন্দের হলেও এসব মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে মৎস্য বিভাগের। একসময় বর্ষা মৌসুমে হাওর, বিল, খাল ও ফসলের মাঠে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের ব্যাপক বিচরণ থাকলেও জলাশয় সংকোচন, পানি চলাচলে বাধা ও নানা পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রজাতিই আগের তুলনায় কমে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন বলেন, বর্ষার সময় কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের মধ্যে পানির সংযোগ দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জলাভূমি ও মাছের বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য ধরে রাখা সম্ভব হবে।

কমলগঞ্জে মাঠে এখন তাই একই সঙ্গে চলছে কৃষকের নতুন ফসলের প্রস্তুুতি আর গ্রামীণ মানুষের মাছ ধরার আনন্দ।

কাঁদামাটিতে মাছ খোঁজার এই দৃশ্য শুধু বর্ষার চেনা গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ নয়, বরং কৃষিজমি ও জলজ জীববৈচিত্র্যের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর