
আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প এখন ভোগান্তি ও জন-অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলেও গ্রাহকদের অভিযোগ বাড়তি খরচ, হঠাৎ বিল বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের সেবায় ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
দেশের ৩০টি পৌরসভায় বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় কমলগঞ্জ পৌরসভায় ৬ লাখ লিটার পানি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চ জলাধার, একটি পানি শোধনাগার, অফিস ভবন এবং প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পৌর এলাকার প্রায় ১ হাজার ৫শ পরিবারকে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় অসহায় ও হ্্রতদরিদ্র পরিবারের জন্য ৭শটি টয়লেট নির্মাণ, ৩টি উৎপাদনকারী নলকূপ স্থাপন, ৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ এবং ২টি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। পাবলিক টয়লেটের একটি উপজেলা চৌমুহনায় এবং অপরটি ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে ২টি ভ্যাকুয়াম ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল।
অন্যদিকে পৌরবাসীর অভিযোগ, আগে পানির সংযোগ সম্পূর্ণ ফ্রি থাকলেও বর্তমানে মিটার বাধ্যতামূলক করে ৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ ফ্রি ১২শ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮শ টাকা করা হয়েছে। মালামাল, শ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে নতুন সংযোগ নিতে একজন গ্রাহককে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, সংযোগের কাজে আসা কিছু কর্মীকেও অতিরিক্ত “পকেট খরচ” দিতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের দাবি, সময়মতো পানি সরবরাহ করা হয় না, পানির চাপ কম থাকায় উপরের তলায় পানি ওঠে না এবং অনেক সময় পানিতে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতি দেখা যায়। এছাড়া পাইপলাইন স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। কোথাও কোথাও মাটির গভীরে পাইপ না বসানোয় তা ফেটে গিয়ে রাস্তায় পানি অপচয় হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে হঠাৎ করে পানির বিল প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে। পূর্ব ঘোষণা বা কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ ছাড়াই মে মাস থেকে ২শ টাকার পরিবর্তে ৩শ টাকা বিল নির্ধারণ করায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাড়তি আর্থিক চাপে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকা, ৯ জনষ্টাফের বেতন বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং লাইন মেরামতে আরও ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সম্প্রতি একটি সাবমার্সিবল পাম্প পুড়ে যাওয়ায় তা মেরামতে অতিরিক্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
প্রকল্পের আবাসিক প্রকৌশলী এম ডি গোলাম কবির খান বলেন,“এই প্রকল্প পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ৭০ শতাংশ গ্রাহক নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও ৩০ শতাংশ বিল দেন না। অনেক গ্রাহক অযথা কল ছেড়ে পানি অপচয় করেন। তাই বাধ্য হয়ে পানির বিল বৃদ্ধি করতে হয়েছে।”
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হিমশিম খাচ্ছে পৌরসভা। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ আলোচনা করে বিল নির্ধারণ করেছে। তবে গ্রাহকদের বিল কমানোর আবেদনের বিষয়টি আলোচনা করে পূর্ণ বিবেচনা করার চেষ্টা করা হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...