‘মে’ দিবসে বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫ এবং ৮৯১ এর বর্ণাঢ্য র‍্যালি

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ , ১ মে ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মো. সাহিদুল ইসলাম শাহীন:-আজ ‘মে’ দিবস। ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিনের দাবীতে আন্দোলন হয়। উক্ত আন্দোলণে পুলিশেন ছোঁড়া গুলিতে ১১ জন শহীদ হয়। এদিনটি সরকারীভাবে ছুটির দিন। এ উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-৯২৫ এবং ৮৯১) একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করে। এই আয়োজনে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে প্রায় ১ মাইল দীর্ঘ র‍্যালী শ্রমিক সংগঠন দুটি’র বন্দর সংলগ্ন অফিস কার্যালয় থেকে বের করা হয়। র‍্যালি’র এক টিতে নেতৃত্ব দেন বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫,এর সাধারণ সম্পাদক-মো. সহিদ আলী। এ সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন,সংগঠনটি’র সভাপতি তবিবর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.ইদ্রিস আলী সহ অন্যান্যরা।

র‍্যালিটি প্রায় ২ মাইল দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বেনাপোল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ​র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের হাতে মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার দেখা যায়।

র‍্যালি ‘র নেতৃত্বদানকারী সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং শার্শা উপজেলা বিএনপি’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. সহিদ আলী বলেন,মে দিবসের এই দিনে তারা তাদের অধিকার ও দাবি-দাওয়ার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

অপরদিকে,একই সময় হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন(রেজিঃ নং- ৮৯১) এর কার্যালয় থেকে পৃথক আর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন হোসেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন,সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবেদার রহমান, ক্যাশিয়ার শফিকুল ইসলাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং আইন ও শ্রমিক সম্পাদক অহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকরা।

​সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও র‍্যালিতে উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের উৎসাহিত করেন। র‍্যালি শেষে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক সংগঠন দুটি’র দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

ইতিহাসের পাতা থেকে যতটুকু জানা যায়,পূর্বে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম করতে হত, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আর সপ্তাহে ৬ দিন। বিপরীতে মজুরী মিলত নগণ্য, শ্রমিকরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করত, ক্ষেত্রবিশেষে তা দাসবৃত্তির পর্যায়ে পড়ত।

১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একদল শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন এবং তাদের এ দাবী কার্যকর করার জন্য তারা সময় বেঁধে দেয় ১৮৮৬ সালের ১লা মে। কিন্তু কারখানা মালিকগণ এ দাবী মেনে নিল না। ৪ঠা মে ১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিকাগোর হে-মার্কেট নামক এক বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকগণ মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হন।

তারা ১৮৭২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল শ্রমিক শোভাযাত্রার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি করেছিলেন। আগস্ট স্পীজ নামে এক নেতা জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাৎ দূরে দাড়ানো পুলিশ দলের কাছে এক বোমার বিস্ফোরন ঘটে, এতে এক পুলিশ নিহত হয়। পুলিশবাহিনী তৎক্ষনাত শ্রমিকদের উপর অতর্কিতে হামলা শুরু করে। ঐ পুলিশি হামলায় ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন।

হতাহতের ব্যাপারে পুলিশ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত হত্যা মামলায় আগস্ট স্পীজ নামের এক ব্যাক্তি সহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এক প্রহসনমূলক বিচারের পর ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর উন্মুক্ত স্থানে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

লুইস লিং নামে একজন একদিন পূর্বেই কারাভ্যন্তরে আত্মহত্যা করেন, অন্যএকজনের পনের বছরের কারাদন্ড হয়। ফাঁসির মঞ্চে আরোহনের পূর্বে আগস্ট স্পীজ বলেছিলেন, “আজ আমাদের এই নি:শব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে”।

২৬শে জুন, ১৮৯৩ ইলিনয়ের গভর্ণর অভিযুক্ত আটজনকেই নির পরাধ বলে ঘোষণা দেন, এবং রায়টের হুকুম প্রদানকারী পুলিশের কমান্ডারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। আর অজ্ঞাত সেই বোমা বিস্ফোরণকারীর পরিচয় কখনোই প্রকাশ পায়নি।

শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের “দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার” দাবী অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে, পৃথিবীব্যাপী আজও তা পালিত হয়।