
আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানালো এক অপহরণচেষ্টার ঘটনা। দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে ১০ বছরের শিশুকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের ওপর নারকীয় হামলা এবং শেষমেশ অপরাধীদের সসম্মানে মুক্তি সব মিলিয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ভূমিকা এখন টক অব দ্য টাউন।
জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (৮ মে) জুমার নামাজের সময় যখন পুরুষরা মসজিদে, ঠিক তখনই শমশেরনগরের পার্শ¦বর্তী পাইকপাড়া ভূইগাঁও এলাকায় কবির আহমেদ চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয় একদল সন্ত্রাসী। আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করেই শিশু নেহা চৌধুরীকে (১০) অস্ত্রের মুখে তুলে নেন তার মা নাজিরা আক্তার রুজি ও খালা নাদিরা আক্তারসহ ভাড়াটে সহযোগীরা।
এসময় শিশুর বড় চাচি সুমি আক্তার বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত ও চাচা আকিক আহমেদকে মারধর করা হয়। তবে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অপহরণকারীদের গতিরোধ করে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
কিন্তু নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা রণমূর্তি ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পরেছে এ ঘটনার ভিডিও।
ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, পুলিশ ফাঁড়ির ভিতরে অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে হাত তোলেন এবং টানাহেঁচড়া করে এক পুলিশ সদস্যের টি শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম বিশৃঙ্খলার মাঝেও অপরাধীরা ছিল বেপরোয়া।
এত বড় ঘটনার পরও অপরাধীদের কোনো আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি না করে ¯্রফে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, শমশেরনগর ফাঁড়ি পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিনের বাড়ি এবং অপরাধীদের পরিচয় একই জেলায় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) হওয়ায় এবং একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় থাকায় আইনের বদলে আপস বেছে নিয়েছেন তিনি।
শিশুর বাবা কবির আহমেদ চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, ২০০৭ সালে নাজিরা আক্তার রুজির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নাজিরা তার বাবার বাড়িতে থাকছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমার মেয়ে নেহাকে নিয়ে আসি।
এরপর নেহা আর তার মায়ের কাছে ফিরতে চায়নি। এ ঘটনায় নাজিরা আমার বিরোদ্ধে মৌলভীবাজার আদালত ও কুলাউড়া থানায় পৃথক দুটি অপহরণ মামলা করেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই আদালত নেহার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে আমার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
শুক্রবার সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র ছিল, তারা পুলিশের ওপর হামলা করল, অথচ ইনচার্জ সাহেব তাদের কিছুই করলেন না। আইনের রক্ষকই যদি অপরাধীদের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা কার কাছে যাব?
তবে অভিযোগের বিষয়ে নাজিরা আক্তার রুজি বলেন, কোর্ট কী, আর আইন কী। আমি কিচ্ছু মানি না। আমার মেয়েকে আমি নিবই।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দিয়েছি। তবে পুলিশের ওপর হামলা এবং টি শার্ট ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও ফুটেজের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে শনিবার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, শিশুর মায়ের সাথে কিছু লোকজন ছিল, তাদের সাথে পুলিশের উচ্চ বাকবিতন্ডা হইছে এই পর্যন্তই। গায়ে হাত তুলে নাই, আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...