
মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার হাটবাজার ও অলি গলিতে ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে কয়ক’শ। এর মধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে কিছু সংখ্যক ড্রাগ লাইসেন্স নিয়েছে। বিপুল পরিমাণ ফার্মেসি ওষুধ প্রশাসনের নজরদারির বাহিরে রয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সরাইল সদর বাজার, চুন্টা,অরুয়াইল বাজার, কালিকচ্ছ রোড, শাহবাজ পুর, পানিশ্বর বাজার, হাসপাতাল গেইট, বিশ্বরোড় এলাকায় ফার্মাসিস্ট ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই অহরহ ওষুধ বিক্রি করে যাচ্ছে। অধিকাংশ ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট না থাকায় অল্প শিক্ষিত লোক দিয়ে চলছে ব্যবসা। অনেক সময় চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র না বুঝে ভুল ঔষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে রোগীদের।
শাহজাদাপুর ও পাকশিমুলসহএসব এলাকার ফার্মেসির মূল গ্রাহক হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ছোট-খাটো অস্ত্রপচারও করেন তারা। মনগরা নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ দিচ্ছেন রোগীদের। এতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ রোগীরা। আরো খবর নিয়ে দেখা যায় যে, মুদি দোকান গুলোতে জ্বর,ব্যথা,সেক্সুয়াল, নিম্ন মানের ওষুধ বিক্রি করছে দোকানিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈধ ব্যবসায়ী বলেন, ওষুধ প্রশাসন যদি নিয়মিত এগুলো তদারকি করেন তাহলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রেহাই পেতে পারেন সরাইল উপজেলাবাসী।মৌসুমি জ্বর-সর্দি-কাশি তো বটেই, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী সেবন করছেন ওষুধ। ফলে সর্দি ও জ্বরের চিকিৎসায় সাধারণ ওষুধের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে ইচ্ছেমতো বাড়ানো হচ্ছে জীবন বাঁচাতে ব্যবহার হওয়া বিভিন্ন ওষুধের দাম।
চাল, ডাল, মাংস, ডিমের মতো এসব নিত্যব্যবহার্য ওষুধের দামেও পকেট কাটা হচ্ছে সাধারণ জনগণের। এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তে ভালো নেই দেশের সাধারণ মানুষ। ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে নিম্নবিত্ত- মধ্যবিত্ত সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন। প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।
সরাইল উপজেলা উচালিয়াপাড়া বাসিন্দা ১ গৃহিণী ষাটোর্ধ্ব এই নারী কষ্টে জীবনযাপন করছেন। বয়সের সাথে সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। মাসের শুরুতে প্রবাসী ছেলের টাকা তোলার পর একসাথে পুরো মাসের ওষুধ কেনেন তিনি। নিজের ওষুধ কেনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, এলাকার ফার্মেসি থেকে মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে কয়েক বছর ধরে নিজের ওষুধ নিজেই কিনছি। ওষুধের দাম প্রতি বছরই কিছু না কিছু বাড়ে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে প্রতিমাসেই বাড়ছে। প্রতিবার এসে দেখছি কোনো না কোনো ওষুধের দাম বেড়ে গেছে। আগে যে টাকায় ওষুধ কিনতাম এখন তা দিয়ে হচ্ছে না। আমাদের খরচের একটা নির্দিষ্ট হিসেব থাকে। প্রতি মাসে কোন কাজে কত টাকা খরচ করব, সেটার একটা পরিকল্পনা টাকা হাতে আসার আগেই করে রাখি। ইদানিং সব জিনিসপত্রের সাথে ওষুধের দামও বেড়েছে।
ফলে বাজেটের মধ্যে কোনো কিছুই ঠিকঠাক মতো করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে বাজার ঘুরে দেখাযায়, যথেচ্ছা দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে ভেজাল ওষুধেরও ছড়াছড়ি। সেই বিষয়েও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটির তেমন কোনো তৎপরতা নেই। ভোক্তা অধিকার কিংবা এ ধরনের সংস্থাগুলো যখন ফার্মেসি গুলো তে অভিযান চালায় তখন দেখা যায় বস্তায় বস্তায় নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে।
এটা ঔষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দেখার কথা। কিন্তু তারা দেখছে না। এমন কথা অনেক ওষুধ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুচরা ওষুধ বিক্রয়তা বলেন, ওষুধের দাম নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সবার একই কথা, ‘গতবার কিনে গেলাম এত দিয়ে, এবার অত চাচ্ছেন কেন?’ এখন দাম তো আসলে আমার নির্ধারণ করি না। আর খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কোনো ওষুধের দাম ইচ্ছামতো কম-বেশি করার কোনো সুযোগই আমাদের নেই।
তাই জবাবে কোম্পানি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে বলে জানাচ্ছি।সরাইল উপজেলা বিভিন্ন ফার্মেসি ও ওষুধ বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন ওষুধের দাম বেড়েছে। এর কিছু সরকারি তথা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সিদ্ধান্তে এবং বাকিগুলোর দাম কোম্পানিগুলো বাড়িয়েছে।মায়ের ওষুধ কিনতে আসা আয়াত আলী বলেন, আমার মা ডায়াবেটিস, আর্থাইটিসসহ নানা স্থায়ী রোগে ভুগছেন।
ফলে তিনি নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খান। সাধারণত মাসের শুরুতে ১৫ দিন অথবা এক মাসের ওষুধ কিনি। এ মাসে ছাড়সহ ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ কিনেছি। গত কয়েক মাস ধরে এর কাছাকাছি খরচ হচ্ছে। অথচ মাস ছয়েক আগে এই ওষুধ কিনতে আমার এক হাজার থেকে ১১শ টাকা খরচ হতো।
এমনিতেই দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে যদি ধারাবাহিকভাবে ওষুধের দামও বাড়তে থাকে! সব কিছু বাদ দিলেও খাবার আরও ওষুধ তো বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে অন্যদিকে বাজেট কমাতে হচ্ছে।এদের মতো ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে গিয়ে সবারই একই অভিজ্ঞতা। শুধু তারা নয়, ক্রেতাদের দাম সংক্রান্ত নানা প্রশ্নে জর্জরিত ফার্মেসি দোকানি থেকে বিক্রয় কর্মীরাও।
এদিকে দেখা যাচ্ছে অনেক ফার্মেসিতে অনেক ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। একটা ওষুধ পেলে আরেকটা ওষুধ পাওয়া যায় না। এটা আছে তো ওটা নাই ওটা আছে তো এটা নাই এই নিয়ে। প্রতিনিয়তই ফার্মেসিতে দেখা যায় রোগীদের সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। ২৫ টাকার ক্যানলা” বিক্রি হতে দেখা যায় ১২৫ টাকা। এমন অভিযোগের শেষ নেই এখন ফার্মেসিতে।।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...