• দেশজুড়ে প্রধান সংবাদ
  • খাগড়াছড়িতে তিনদিনব্যাপী বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু ও বাংলা নববর্ষ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান

খাগড়াছড়িতে তিনদিনব্যাপী বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু ও বাংলা নববর্ষ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ , ৯ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনকৃত তিনদিনব্যাপী বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, পাতা ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উৎসব আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) সমাপ্তি হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল খাদেমুল ইসলাম পিএসসি, পুলিশ সুপার মোঃ মোর্তোজা আলী খাঁন, রিজিয়নের জিটুআই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মংসহ অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবের প্রথম দিন (৭ এপ্রিল) শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দিয়ে। শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শাপলা চত্বর হয়ে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিভিন্ন পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ডিসপ্লে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিন (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বিকালে রচনা প্রতিযোগিতা, যা স্থানীয় শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ও কৃষ্টি ছড়িয়ে দেয়। একই দিন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী দিনে (৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নৃত্য ও গীত প্রদর্শন করেন।

প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, “এ ধরনের আয়োজন পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

আয়োজকরা জানান, এটি কেবল আনন্দ উৎসব নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠান সামরিক ও বেসামরিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধন বৃদ্ধিেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।