• শীর্ষ সংবাদ সর্বশেষ
  • কমলগঞ্জের ক্যামেলিয়া হাসপাতাল ১৮ দিন ধরে বন্ধ, দূর্ভোগে ১৫টি চা বাগানের শ্রমিকরা

কমলগঞ্জের ক্যামেলিয়া হাসপাতাল ১৮ দিন ধরে বন্ধ, দূর্ভোগে ১৫টি চা বাগানের শ্রমিকরা

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ , ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫টি চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিক পরিবারের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ক্যামেলিয়া হাসপাতাল ১৮ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে করে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় লাখো মানুষ।

স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ক্যামেলিয়া হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসেবা শুরু করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি, অতীতের মতো সব ধরনের অপারেশন চালুসহ শিশু মৃত্যুর কারণ তদন্ত, হাসপাতালে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

তবে পরিবারের সদস্যরা রাতে স্থানান্তরে রাজি না হওয়ায় পরদিন সকালে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এরপর থেকেই হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার শমশেরনগরস্থ চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভায় ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’ চালুর দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন, কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিকদের জন্য এই হাসপাতাল ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে। যেখানে বাগানের শ্রমিক,তাদের পরিবার এবং কর্মকর্তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। জরুরি প্রয়োজনে আশপাশের সাধারণ মানুষও এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতেন।

বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চা শ্রমিক পরিবারগুলো। একাধিক নারী চা শ্রমিক বলেন,এই হাসপাতালই ছিল আমাদের ভরসা। অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এখন আমরা চিকিৎসা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।

ঘটনার পর ২৯ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইংল্যান্ডে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, দ্রুত হাসপাতালের সেবা চালুর দাবি জানাই।

শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন,হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন,বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো। আশা করছি দ্রুত সময়ের ভিতরে এটি চালু হবে এবং চা শ্রমিকরা সেবা নিতে পারবে।