দুই মাস ধরে চলছে মাটির কাটার মহোৎসব

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ , ১১ মার্চ ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা সড়ক ঘেঁষে আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। খনন করা মাটি অবৈধ যান কাঁকড়া দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা সড়ক।সেই সঙ্গে দিনরাত কাঁকড়া গাড়ির শব্দ আর ধুলায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। উপজেলা কৈকুড়ী ইউনিয়ন মকরমপুর গ্রামে ও কান্দি ইউনিয়ন তেয়ানী মনিরাম গ্রামের মাটি কাটার ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে ওই গ্রামের মকরমপুর বড় মসজিদের উত্তর পাশে ৫০০ গজ দূরত্বে ও তেয়ানী মনিরামে ও পাঠক শিকড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ৫০০ গজ দূরত্বে গিয়ে দেখা গেছে, যাতায়াতের সড়ক ঘেঁষে আবাদি জমির মাটি অবৈধ যন্ত্র এক্সকাভেটর দিয়ে খনন করা হচ্ছে। অবৈধ যান কাঁকড়াযোগে মাটির স্তূপ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কাঁকড়া চলাচলে কাঁচা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত কাঁকড়া গাড়ির ধুলা বাতাসে উড়ছে। শ্বাসের সঙ্গে ধুলাবালু মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া মানুষের বসতবাড়িতে ধুলাবালু উড়ে আসছে। এতে ঘরের আসবাব ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে। ভাত-তরকারিসহ বিভিন্ন খাবারে ধুলা উড়ে এসে পড়ছে। পুকুর খননকারী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘কী বলি ভাই, সড়কটি এখনো পাকা হয়নি। মাটি বহনকারী কাঁকড়ার বেপরোয়া গতিতে এখনেই সড়কের উঠে যাচ্ছে। এভাবে কাঁকড়া চললে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাবে খুব অল্প সময়ে। তা ছাড়া ভয় হয় কখন যে কোন দুর্ঘটনা ঘটে।’

কাঁকড়া চলাচলের সড়ক ঘেঁষে বসতবাড়ির এক মালিকের সঙ্গে কথা হয়। তিনিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রোজার মাস। তা ছাড়া কামকাজ করা শরীল হামার। যেই একনা আরাম নিবার জন্যে শুতিতেই কাঁকড়ার শব্দ। মনে হয় মাথার উপর দিয়া গেল। ঘুম তো দূরের কথা, মাথার বিষ শুরু হয়।’

ওই বাড়ির গৃহিণী জানান, সড়ক দিয়ে যখন কাঁকড়া যায়, তখন ধুলায় বাড়ি অন্ধকার হয়ে যায়। সেই ধুলাগুলো পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে শোবার ঘর, রান্নাঘরসহ সব ঘরে থাকা জিনিসপত্র ধুলায় ভর্তি হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সড়ক ঘেঁষে পুকুর খননকাজে অভিযুক্ত সাথে যোগাযোগ করার কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে কথা হয় কান্দি ও কৈকুড়ী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শুধু মকরমপুর ও পাঠক শিকড় নয়।

আমার জানামতে এই দুইটি ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে এভাবে মাটি খনন করা হচ্ছে। আমি সে জায়গাগুলোতে গিয়েছিলাম। বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। এরপরে তারা আবারও মাটি খনন করছে কি না জানি না। তবে বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা মাঠে কাজ করছি। কোথাও কোনো অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনি ছবিসহ তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ করেন, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।ইউএনও আরও বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগে। সড়ক ঘেঁষে পুকুর খনন করা ঠিক নয়।