দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে ছাই

প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ , ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী বাজারে এক বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি সদর স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ওষুধ, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ কাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, দীঘিনালা ও বোয়ালখালী বাজার এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও অগ্নিনির্বাপণের জন্য পর্যাপ্ত জলাধার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লাগে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবিকে সামনে রেখে বাজারে নতুন পণ্য তোলা হয়েছিল। এমন সময়ে আগুন লাগায় অনেক ব্যবসায়ী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং কেউ কেউ নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর একই দিনে দীঘিনালার লারমা স্কয়ার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। সে সময় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি সহিংসতার ঘটনায়ও শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।