কমলগঞ্জে বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চা-বাগান সমুহ

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ , ১৫ মার্চ ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে ২২টি চা-বাগানে। সতেজতা ফিরেছে চা গাছ সমুহে। বিশেষ করে চা-বাগানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল এই সময়ের বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চা-গাছে নতুন কুঁড়ি গজাবে বলে জানিয়েছেন চা উৎপাদনের সংশ্লিষ্টরা।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত (১৩ মার্চ) ও (১৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন আরও বৃষ্টি হতে পারে।

চা– বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় তিন মাস আগে উপজেলার বিভিন্ন চা–বাগানে চা– গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু হয়। শীত মৌসুমের শুরুতে এই ছাঁটাই কার্যক্রমের পর বাগান গুলোতে সাধারণত রুক্ষ ও শুষ্ক পরিবেশ দেখা দেয়। চা– গাছে নতুন কুঁডি ও পাতা গজানোর জন্য প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানে কৃত্রিম ভাবে সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল।

এ অবস্থায় বৃষ্টি চা– বাগানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা-–গাছে দেখা দিয়েছে ধুলাবালি ধুয়ে গিয়ে সবুজ ও সতেজ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির কারণে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও অনেকটা রক্ষা পাচ্ছে চা– গাছ।

চা– বাগান সংশ্লিষ্টরা আরো বলেছেন, এই বৃষ্টি চা– উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। কারণ, বৃষ্টির পরপরই চা– গাছে দ্রুত কুঁড়ি বের হতে শুরু করবে। এতে মৌসুমের শুরুতেই চা–পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং উৎপাদনও বাড়তে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর,পদ্মছড়া, আলীনগর, সুইনছড়া, পাত্রখলা, শমশেরনগর ডানকান, মৃর্তিঙ্গা, চাম্পারাই চা বাগান সহ বিভিন্ন চা–বাগান ঘুরে দেখা যায়, ‘আগাম বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা–গাছ গুলো আবারও সতেজ হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে ছাঁটাই করা গাছের কারণে বাগানজুড়ে কিছুটা রুক্ষ ও শুষ্ক পরিবেশ দেখা যাচ্ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চা– বাগান গুলো।

শমশেরনগর চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির অভাবে বছরে তিন-চার মাস চা উৎপাদন করা যায় না। গত দুই দিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, এতে চা-গাছের অনেক উপকার হবে। গাছ থেকে নতুন কুঁড়ি বের হবে এখন। আশা করি, আগাম বৃষ্টিতে চা উৎপাদন ভালো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চা উৎপাদন ভালো হবে বলে আশাবাদি।

বাংলাদেশীয় চা সংসদের (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, বৃষ্টির কারণে চা–বাগান গুলোতে আবার সজীবতা ফিরে এসেছে। এই বৃষ্টিতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে নতুন চা–গাছ এবং প্রুনিং করা গাছগুলোর জন্য এই বৃষ্টি খুবই উপকারী। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে খুব দ্রুত চা–পাতা চয়ন শুরু করা সম্ভব হবে এবং চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও দ্রুত হবে।