মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক কর্মী, স্বর্ণকার রণজিৎ রায় আর নেই

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ , ৮ মার্চ ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্বর্ণকার রণজিৎ রায় আর নেই। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

ইস্ট লন্ডনের ইলফোর্ডে বসবাসরত রণজিৎ রায় মৃত্যুকালে দুই ছেলে – অসিত রায় রিঙ্কু ও আকাশ রায় পিন্টু; তিন মেয়ে – জেনী রায়, মীনাক্ষী রায় মুন্নী ও পিনাক্ষী রায় পিকু; এক ভাই, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও ভারতে বসবাসরত স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন রণজিৎ রায়। ষাটের দশকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে চলে যান এবং নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত স্বর্ণকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সিলেটে থাকাকালে তিনি চৌকিদিঘী, দাড়িয়াপাড়া, জামতলা ও বিলপার এলাকায় বসবাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তিনি ইতালিতে পাড়ি জমান এবং ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রণজিৎ রায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ও অন্যদের সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের কাছাড় জেলার শিলচর, হাইলাকান্দি, বদরপুর, করিমগঞ্জ ও কৈলাশহর এবং ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও অর্থ সংগ্রহে তিনি অবদান রাখেন।

সে সময় হিমাংশু গোস্বামী, রণজিৎ রায়সহ আরও অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিলচরের গুরুচরণ কলেজ (জি সি কলেজ) ছাত্রাবাসে অবস্থান করতেন। সেখান থেকে তারা বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালাতেন।

তাদের সংগঠনের নাম ছিল ‘বাংলাদেশ গণমুক্তি শিল্পী গোষ্ঠী’, যার সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন সুজেয় শ্যাম। এই শিল্পী গোষ্ঠীর সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন সুজয় সাহা, আরতি ধর, শুকলাল ভৌমিক, হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য (বাবুল ভট), সাংবাদিক এম এ বাসিত, নাসরিন বেগম রোজি, সুবল দাস, দুলাল ভৌমিক, নাইমা চৌধুরীসহ অনেকে।

রণজিৎ রায়ের মৃত্যুতে তার স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।