ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুর ভরাটে সড়ক ও খাল ক্ষতির অভিযোগ, সওজের নির্দেশ অমান্য

প্রকাশিত: ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ , ৯ মার্চ ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় একটি পুরোনো পুকুর বালু দিয়ে ভরাটকে কেন্দ্র করে সড়ক ও পাশের খাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি খননযন্ত্র ও পাইপের মাধ্যমে বালু এনে পুকুর ভরাট করছেন বলে জানা গেছে। এতে সদর ও আশুগঞ্জ উপজেলার বিরাসার–লালপুর আঞ্চলিক সড়কের উপর বালু রাখায় সড়কের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পাশের খালও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সড়ক রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) লিখিত আবেদন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বিলকেন্দুয়াই গ্রামের খাকচাইল মৌজার ২০৯ নম্বর খতিয়ানের ৭৩২ নম্বর দাগে প্রায় ৫২ শতক আয়তনের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটির দক্ষিণ পাশে একটি মাজার এবং চারদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতবাড়ি রয়েছে। পুকুরটির মালিক হিসেবে প্রয়াত ফজু মিয়া, তার ছেলে প্রয়াত ছিদ্দিক শাহ, ছিদ্দিক শাহর ছেলে শাহ আলম, ভাই নুর ইসলাম ও মন্নান মিয়ার নাম জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুকুরের মালিকদের সঙ্গে বিলকেন্দুয়াই গ্রামের কামাল মিয়া মিলে কয়েকদিন ধরে বালু এনে পুকুরটি ভরাট করছেন। অন্য এলাকা থেকে ড্রাম ট্রাকে বালু এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–লালপুর আঞ্চলিক সড়কের উপর এবং পাশের খালে রাখা হচ্ছে। পরে খননযন্ত্র ও পাইপের মাধ্যমে সেই বালু পুকুরে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের উপর বালু স্তূপ করে রাখার কারণে সড়কের ফুটপাত, সোল্ডার ও সড়ক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বড় ট্রাকে বালু আনা–নেওয়ার কারণে সড়কের দুই পাশের অনেক জায়গা দেবে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে **প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০** অনুযায়ী কোনো পুকুর, খাল, নদী বা জলাশয় ভরাট করা বেআইনি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খন্দকার সড়কের উপর অবৈধভাবে রাখা বালু, খননযন্ত্র ও পাইপলাইন নিজ খরচে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিলকেন্দুয়াই গ্রামের কামাল মিয়া, মানিক মিয়া, ভুট্টু মিয়া ও নছর মিয়াকে নির্দেশ দেন। কিন্তু মৌখিক ও লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়ার পরও তারা তা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সওজের কর্মকর্তারা জানান, খাকচাইল এলাকায় সড়কের পামপাশে ফুটপাত ও সড়ক বাঁধের উপর বালু রাখার ফলে সড়কের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনসাধারণ ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ফুটপাতের উপর বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে, যা দণ্ডবিধির ৪৩১ ধারার পরিপন্থী। তাই দ্রুত এসব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কামাল মিয়া এলাকায় ‘বালু কামাল’ নামে পরিচিত। তিনি ট্রাকে বালু এনে সড়কের উপর ও পাশের খালে রেখে পাইপের মাধ্যমে গ্রামের ভেতরের পুকুরে ফেলছেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে কামাল মিয়া বলেন, কিশোরগঞ্জের মেন্দিপুর থেকে বালু এনে লালপুরে নামানো হয় এবং সেখান থেকে ট্রাকে করে এখানে এনে পাইপের মাধ্যমে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। পুকুরের পাশে একটি কবরস্থান ও দক্ষিণ দিকে একটি মাজার রয়েছে। কবরস্থানের জায়গা সম্প্রসারণের জন্যই পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে এবং এতে সড়কের কোনো ক্ষতি হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

পুকুরের মালিক শাহ আলম বলেন, মাজারের বার্ষিক ওরশ আয়োজনের সুবিধার্থে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে এবং এটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।