মোঃ মিজান লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার একটি এলাকায় রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে পুকুরে রূপান্তরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ দাতা কৃষকের দাবি দিনে যেখানে দেখা যায় সবুজ ফসলের মাঠ, রাতের বেলায় সেখানে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাশের ব্রিকফিল্ডের
একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এভাবে আমার কৃষিজমির মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে পেললো।
গতকাল শনিবার(৭ইমার্চ) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার চরম্বা তেলিবিলা, খালেকের দোকান গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকের অনুমতি ছাড়াই ৩০ শতক ফসলি জমির মাটি রাতের আঁধারে কেটে নিয়েছে তারা। খননকৃত খেতের পাশেই চিৎকার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইছেন কৃষক বদিউল আলম ও তার ছেলে।
জমির পাশেই সিবিএম (ওয়ান) ব্রিকস ইটভাটায় মাটির পাহাড় জমে আছে। রাতে মাটি কাটার জন্য পুরো চক জুড়ে আলোর ব্যবস্থা করে রেখেছে।
এভাবেই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের তেলিবিলা, রাজঘাটা এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে মাটি। এসব মাটির শেষ ঠিকানা হচ্ছে খালেকের দোকান এলাকায় অবস্থিত সিবিএম(ওয়ান) ব্রিকস নামের এক ইটভাটায়।
তেলিবিলা গ্রামের বাসিন্দা ইয়াছিন জানান, বদিউল আলম তার জমিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ করেছেন। ইটভাটার মালিক ইকবাল, আবিদুর রহমান মানু, মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল হকসহ আরও কয়েক জন প্রভাবশালী কৃষিজমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে তাদের ইটভাটায় নিয়ে গেছে। এতে পাশের কৃষি জমির মাটি ভেঙে পড়ছে। মাটিকাটা বন্ধ না করলে এই চক থেকে কৃষিজমি হারিয়ে যাবে।
অভিযোগ উঠেছে, পরিবেশ আইন অমান্য করে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবত এই চকের ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। প্রথমে এলাকার চিহ্নিত দালালরা লোভনীয় অফার দিচ্ছে কৃষকদের। রাজি না হলে দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি।
তাতেও যদি কৃষি জমির মাটি বিক্রিতে অনীহা দেখায় কৃষক, তাহলে রাতের আঁধারে তাদের অনুমতি ছাড়াই কেটে নিচ্ছে এসব জমির মাটি। মাটি ব্যবসায়ীরা এক্সকাভেটর দিয়ে ১০ থেকে ২০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব গর্তে পাশের কৃষিজমির মাটিও ভেঙে পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বদিউল আলম বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে কৃষি কাজ করে আমার সংসার চলে। এই বছরও আমি ফসল চাষাবাদ করেছি। একদিন সকালে এসে দেখি আমার জমির মাটি রাতারাতি নিয়ে গেছে ইটভাটার মালিক।
এই নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। কিন্তুু কোন ফলাফল পাই নি। আমার খেতের ফসল নষ্ট করে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়েছে ইকবাল, আবিদুর রহমান মানু, মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল হক।
সিবিএম(ওয়ান) ব্রিকসের মালিক আবিদুর রহমান মানু বলেন, আমরা মাটি কিনি ঠিকাদার বাশারের কাছ থেকে। তারা কীভাবে কোথা থেকে মাটি এনে দেয় তা আমার জানা নেই।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও জরিমানা করা হয়েছে। জোর করে মাটি কাটার অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত