খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় স্বাধীনতা দিবসে পুরস্কার বিতরণ ও গুণীজন সম্মাননা

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ , ২৮ মার্চ ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

“শিক্ষা, মুক্তি, প্রগতি” মূলনীতিকে সামনে রেখে এবং “এসো সবাই বই পড়ি, আলোকিত হয়ে আলোকিত সমাজ গড়ি” প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী, গুণীজন সম্মাননা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে উপজেলার রাজেন্দ্র কার্বারী পাড়ায় পহর লাইব্রেরির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।

অনুষ্ঠানে মোটিভেশনাল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য হেমা চাকমা।

পহর লাইব্রেরির সভাপতি খনেশ্বর ত্রিপুরা রিচার্ডের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুজেন্দ্র মল্লিকা মর্ডান কলেজের অধ্যক্ষ সাধন ত্রিপুরা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নারী উদ্যোক্তা চামেলী ত্রিপুরা, দৈনিক জনবাণী পত্রিকার সিএইচটি ব্যুরো প্রধান ত্রিপন জয় ত্রিপুরা, নয় মাইল ত্রিপুরা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিপন ত্রিপুরা এবং দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আল আমিনসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পহর লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক রিপন ত্রিপুরা।

আলোচনা সভা শেষে ডা. দীপা ত্রিপুরা, ডা. দীনেশ ত্রিপুরা, সাংবাদিক ত্রিপন জয় ত্রিপুরা, দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আল আমিন এবং ডাকসু সদস্য হেমা চাকমার হাতে পহর লাইব্রেরির পক্ষ থেকে গুণীজন সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণ সমাজকে মাদক, সহিংসতা ও অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে পাঠাগারভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পহর লাইব্রেরির সভাপতি খনেশ্বর ত্রিপুরা রিচার্ড জানান, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি রাজেন্দ্র কার্বারী পাড়ায় লাইব্রেরিটির যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক আলোচনা সভার মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশের অভাবে এ এলাকার অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং একটি শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পহর লাইব্রেরি কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ‘পহর’ একটি ত্রিপুরা শব্দ, যার অর্থ ‘আলো’। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লাইব্রেরিটি এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি জাতীয় দিবসসমূহ যথাযথ মর্যাদায় পালন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।