• দেশজুড়ে প্রধান সংবাদ
  • খাগড়াছড়িতে নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্কের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

প্রথাগত আইন ও নারী অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

খাগড়াছড়িতে নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্কের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ , ১৩ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনা, বিচারিক ব্যবস্থা এবং শাসন প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বিকাশের অঙ্গীকার নিয়ে খাগড়াছড়িতে পালিত হলো ‘সিএইচটি নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্ক’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ি সদরের পানখাইয়া পাড়াস্থ ‘আলো’র হলরুমে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় বক্তারা পাহাড়ের প্রথাগত আইন ও ১৯০০ সালের শাসনবিধি সম্পর্কে তৃণমূলের নারী প্রতিনিধিদের আরও সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও নেটওয়ার্কের জেলা সভাপতি জয়া ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্বারী অঞ্জলী ত্রিপুরা। সভায় সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক ও পানছড়ির পূজগাং মৌজার হেডম্যান ইখিন চৌধুরী। তিনি জানান, পাহাড়ের নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই জেলাভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

ইউএনডিপি-র খাগড়াছড়ি জেলা ব্যবস্থাপক প্রিয়তর চাকমা সংগঠনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র অনুসরণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ডিজিটাল ডাটাবেজ থাকলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় সহজ হয়, যা সংগঠনের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

প্রথাগত আইন ও ভূমিতে নারীর অধিকার সভায় বক্তারা ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিকে আদিবাসীদের অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমাজকর্মী ধীমান খীসা বলেন, “পাহাড়ি নারীরা এখনো শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। বিশেষ করে চাকমা নারীরা আজও ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রথাগত ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

অন্যদিকে, আলোর নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “অধিকাংশ হেডম্যান ও কার্বারী ১৯০০ সালের শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মূল বিষয়গুলো জানেন না। আইন না জানলে কেবল পদবি দিয়ে অধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

কার্বারীদের আর্থিক সংকট ও সামাজিক মর্যাদা অনুষ্ঠানে তৃণমূলের কার্বারীদের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং।

তিনি বলেন, “কার্বারীরা সামাজিক মর্যাদার কারণে দিনমজুরি করতে পারেন না, অথচ তাদের সরকারি ভাতা অত্যন্ত নগণ্য। মেহমানদারি ও গ্রামের তথ্য সংরক্ষণের বাড়তি চাপ তাদের আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়।” এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ে বসবাসরত সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির দাবিও জানান তিনি।

খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গীতিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে নারীদের ওপর সহিংসতার অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যায়।

এই নেটওয়ার্ক সেই অনুচ্চারিত কান্নাকুলা সামনে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শান্তনা খীসা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ সকল সালিশি কার্যক্রমের সঠিক নথি সংরক্ষণের জন্য নারী প্রতিনিধিদের আহ্বান জানান।

সভার শুরুতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক পূবালী ত্রিপুরা। সভায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী হেডম্যান ও কার্বারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।