কার্বারীদের ভাতা বৃদ্ধি ও প্রথাগত প্রশাসন সুরক্ষার দাবি

প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ , ১৪ মার্চ ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং কার্বারীদের জন্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বলেন, বর্তমান ভাতা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে অনেক কার্বারী আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ি উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির হলরুমে আয়োজিত জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা-২০২৬ এ এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার অযোধ্যা মৌজার হেডম্যান জয়া ত্রিপুরা।

আলোচনা সভায় মাটিরাঙা উপজেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক যতীন বন্ধু ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেম রঞ্জন চাকমা। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা বলেন, একজন যোগ্য কার্বারী বা হেডম্যানকে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। তিনি কার্বারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা যতীন বিকাশ চাকমা, জেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যব লক্ষণ চাকমা, সিএইচটি নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক হেডম্যান ইখিন চৌধুরী, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি প্রতন কুমার চাকমা এবং রামগড় কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের আনন্দ মোহন ত্রিপুরা প্রমুখ।

বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থার বর্তমান সংকট এবং তা থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরা বলেন, কার্বারীদের বর্তমান ভাতা সম্মানজনক নয় এবং পদমর্যাদার কারণে তারা অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হতেও অনেক ক্ষেত্রে সংকোচবোধ করেন। ফলে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন। তিনি কার্বারীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থা সুরক্ষা, কার্বারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।