
আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি ও চা বাগান অধ্যূষিত হওয়ায় ভোটের ফলাফল নির্ধারণে চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটাররাই “গেইম চেঞ্জের” নিয়ামক শক্তি। এই বিশাল শ্রমজীবি জনগোষ্টির ভোট যে দিকে যাবে জয়ের পাল্লা সে দিকেই ভারী হবে।
তাদের ভোটেই প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ভর করবে। আর সেই হিসাবকেই মাথা নিয়ে আসনটির প্রতিদ্বদ্ধি প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা পৃথক-পৃথক ভাবে চা বাগান এলাকা সমূহের চা শ্রমিক ভোটারের দ্বারে দ্বারে গণ সংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের পদচারনায় চা বাগান সমুহ এখন মুখরিত।
প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন চা বাগানে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা গণ সংযোগ করছেন। সেই সাথে প্রার্থীরা উঠান বৈঠক করছেন। উঠান বৈঠকে প্রার্থীরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি,ভুমির অধিকার ,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করন সহ দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।
জানা যায়,আসনটিতে বাংলাদেশ টি বোর্ড,ন্যাশনাল টি কোম্পানী,ডানকান বাদ্রার্স,ফিনলে টি কোম্পানী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন সহ ছোট-বড় ২২টি চা বাগান রয়েছে। বাগান সমুহে প্রায় পনে দুই লাখ ভোটার রয়েছেন। তাদের বেশীর ভাগই সনাতন ধর্মাবল্মী।
এই ভোটাররা এক সময় আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করলে ও এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় যে প্রার্থী তাদের মন জয় করতে পারবে সেই প্রার্থীই ভোট পাবেন।
চা বাগান এলাকা ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে ধারণা করা যাচ্ছে নৌকার ভোট ব্যাংক চা বাগানে ভাঙ্গনটি কিছুটা বড় আকার ধারণ করেছে। এ সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে প্রচারনায় প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে দিন রাত অবিরাম জনসংযোগ,উঠান বৈঠক করে নিজের প্রতীকে ভোটারদের কাছ ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা।
চা শ্রমিক উর্মী কৈরী বলেন,আমরা ভোটের দিন দলবদ্ধ ও জোটগত ভাবে ভোটা দিয়ে থাকি। এবার সেই ভাবে ভোট দিবো। আমাদের ভাগ্য বদলে যে প্রার্থীকে যোগ্য মনে করবো আমরা থাকেই ভোট দিবো।
মনু ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী বলেন,আমাদের চা শ্রমিকদের বিভিন œসমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে মজুরী,ভুমির অধিকার,শিক্ষ ও চিকিৎসা অন্যতম। ভোটের সময় আসলে প্রার্থীরা বাগানে আসেন,দেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোট চলে গেলে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়না। আমরা এখন সচেতন। দেখে শুনে যোগ্য প্রার্থীকেই এবার ভোট দিব।
অপর চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, আমাদের ভোটেই এই আসনের প্রার্থী নির্বাচিত হয়। আমরা আর প্রতারনার ফাঁদে পা দিব না। হিসেব-নিকেশ করেই ভোট প্রয়োগ করবো।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বড় একটি দল আওয়ামীলীগ না থাকায় হিসাব নিকাশ মেলানো কঠিন মনে করছেন সচেতন ভোটাররা।
এ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় পাটির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙল), বাসদের মো. আবুল হাসান (মই) মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও চা শ্রমিক অধ্যুষিত সংসদীয় আসনটি কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল দুই উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও আঠারটি ইউনিয়ন নিয়ে ২৩৮ তম সংসদীয় আসন।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার-২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৭ জনও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ২ জন এবং পোষ্টাল ভোটার ২ হাজার ৩১৮ জন। দুই উপজেলায় ১৬৩টি স্থায়ী ভোট কেন্দ্রের ৯৩৯টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্টিত হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাষ্টার প্যারেড ও কিট প্যারেড...
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাষ্টার প্যারেড ও...
ইবিতে চাকরি হারালেন ২৬৮ কর্মচারী
ইবিতে চাকরি হারালেন ২৬৮ কর্মচারী
ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরাইল সহায়তা কমানোর প্রস্তাব...
ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরাইল সহায়তা...
গাজার চিকিৎসক অ্যাডাম হামাউয়ি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত
গাজার চিকিৎসক অ্যাডাম হামাউয়ি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে...
রাজৈরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
রাজৈরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী...
ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলন শান্ত, পুলিশ-বিজিবি সতর্ক
ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলন শান্ত, পুলিশ-বিজিবি সতর্ক