কমলগঞ্জে ফসলি জমি ভরাট করে নির্মাণ হচ্ছে স্থাপনা

প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহ্ণ , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় তিন ফসলি কৃষি জমি ভরাট করে সড়কের পাশের জমিতে অনেকেই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এমন ভবন শুধু একটি নয় কিছু দূর পরপর এইরকম দৃশ্য দেখে যায় উপজেলার পতনঊষার- ভানুগাছ,কমলগঞ্জ-মাধবপুর,কমলগঞ্জ-শমসেরনগর,কমলগঞ্জ-মুন্সিবাজার সড়কের পাশে। 

এক বেসরকারী পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ৫ বছরে প্রায় ২শ একর কৃষি জমি কমেছে। সময় যত যাচ্ছে ততই দৃশ্যমান পাকা ভবনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কৃষি জমি কমছে। এসব স্থাপনা নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌরসভার কাছ অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কেউ মানছেন না। মানছেন না ভূমি সুরক্ষা আইন।

এ ছাড়া অনেক জমির মালিক অল্প কিছু টাকার জন্য জমির ওপরের স্তরের মাটি কেটে বিক্রি করছেন বিভিন্ন ইটভাটার মালিকের কাছে। এতে করে জমির উরর্বতা শক্তি যেমন কমছে, অন্যদিকে এই মাটি দিয়ে কৃষিজমিতে ভিটা ভরাট করা হচ্ছে। ফলে দুদিক থেকেই ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হচ্ছে।

ভূমি ব্যবহার ও সেচ পরিসংখ্যান জরিপ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২শ একর কৃষি জমি কমেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে ফসলি জমি ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাট নির্মান ও জমি ভরাট করে ফেলে রাখা হয়েছে।
কৃষি জমিতে নানা স্থাপনা গড়ে তোলা ব্যক্তিরা জানান, যাঁরাই ফসলের জমি ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করছে তাদের প্রয়োজনে করছে। এখন জমিতে কৃষি চাষ করে লাভ হয়না।

এরচেয়ে জমি ভরাট করে দোকান বা বাসাবাড়ি নির্মাণ করলে একদিকে জমির দাম বারে অন্যদিকে এর থেকে ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া অনেকের আগে পরিবারের সদস্য সংখ্যা কম ছিল, যা এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য অনেকেই নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মুহাইমিন মিল্টন বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন থাকলেও এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। এই আইন অল্প পরিসরে বাস্তবায়ন হলেও কিছুটা কৃষিজমি রক্ষা করা যেত। যেভাবে জমি ভরাট করা হচ্ছে, তাতে করে একসময় খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন বা যেকোনো জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সড়কের পাশে বাড়িঘর নির্মাণ করা হলে অবশ্যই জায়গা রেখে স্থাপনা তৈরি করতে হবে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে কৃষি জমি ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সবাইকে মিলে কৃষিজমি রক্ষা করে স্থাপনা তৈরি করতে হবে।

আমাদের দেশে কৃষি জমি ভরাটের বিষয়ে আইন হলো স্থাপনা নির্মাণের আগে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। তবে এই আইন কেউ মানতে চান না।