ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২আসনে লড়াই ত্রিমুখী;৩ ফ্যাক্টরে হবে এমপি!!আওয়ামী ভোট টানার চেষ্টা

প্রকাশিত: ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২: লড়াই ত্রিমুখী, ৩ ফ্যাক্টরে নির্বাচিত হবে এমপি। আসনে নতুন ভোটার, আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটেই নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাপ বাড়ছে ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ আসনে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। এদিকে সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও আংশিক বিজয়নগর) আসন থেকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।

এ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী মাও. জুনায়েদ আল হাবিব , ১১ দলীয় জোট আশরাফ মাহদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৮ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। তবে এসব প্রার্থীদের টার্গেট এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল- আশুগঞ্জ উপজেলা ও বিজয়নগর দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন।

এ আসনে রয়েছে -১৯টি ইউনিয়ন। এ আসনটিতে মোট ভোটার-৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৭। বর্তমানে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ জন, মহিলা ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৬ জন ও হিজড়া ২ জন।সরাইল উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৬। আশুগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৪ জন।

এছাড়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯২৭।ভোট- কেন্দ্র – ১-শত-৫১ টি রয়েছে।এই আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তাদের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর মধ্যে ৬ জন দলীয় এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।মাঠ পর্যায়ের গণসংযোগ ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিএনপির জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের খেজুর গাছ।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা, আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএন তরুণ দে কলার ছড়ি মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান আলোচনায় থাকা তিন প্রার্থী হলেন-
বিএনপির জোট প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের( খেজুর গাছ)ওবিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা, অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএন তরুণ দে কলার ছড়ি মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটের মাঠে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণার দৌড়ঝাপ ততই বেড়েছে। দিনরাত আসনটির বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ ও পথসভা করছেন প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন তারা।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা।স্থানীয় ভোটাররা বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক। ফলে দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটব্যাংক যেদিকে যাবে মূলত সেখানেই ফলাফলের পাল্লা ভারী হবে। তবে এসব ভোটারের বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে, যে প্রার্থী সেই ভোট পাবে- তিনিই বিজয়ী হবেন। এই আসনে আদর্শের চেয়ে ভোটব্যাংক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের ভোট যে প্রার্থীর ব্যালটে পড়বে সেটিই নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন আগামী সংসদ সদস্য।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা বলেন,বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এমনকি বিএনপিও রাজনীতি করতে পারেনি এলাকায়।

তবে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারে পতনের পর বিএনপি নির্বিঘ্নে রাজনীতি করতে পাড়ছে। যা ভোটের মাঠে ভোটারদের আশ্বস্ত করে তুলছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। এতে বিএনপি জোট জয়লাভ করবে।সব মিলিয়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটারদের আচরণ, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ এবং দলীয় বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান- সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।