নাটোর ১, ( লালপুর – বাগাতিপাড়া) আসনে ত্রিমুখী লাড়াইয়ের সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ , ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ভোটের ফল নির্ধারণ করবেন আওয়ামী ভোটাররা।ছবি- কালের বিবর্তন।

সালাহ্ উদ্দিন, লালপুর (নাটোর) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাটোর-১ ( লালপুর – বাগাতিপাড়া) আসন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই এখানে উত্তেজনার পারদ ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। রাজনীতির অনিশ্চিত খেলায় ক্ষনে ক্ষনে বদলেছে এখানকার ভোটের হিসাব।

৪৬৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দুটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা মিলে এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৬ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নয় জন প্রার্থী। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় ভূমিধস বিজয়ের সুযোগ ছিল তাদের।

কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক এড. তাইফুল ইসলাম টিপু কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে হতে চলেছে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াই। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জনপ্রিয় টকশো ব্যক্তিত্ব ও মরহুম যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের ছোট কন্যা ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

জামায়াতের হয়ে লড়ছেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। মাঠের বর্তমান বাস্তবতায় তাদের তিনজনেরই রয়েছে জয়ের সমান সম্ভাবনা। জয় পেতে পরিকল্পিত ছকে কাজ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন পেতে শুরু থেকেই কৌশলী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু।

সাধারণ আওয়ামী কর্মী সমর্থকদের জেল, জুলুম ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন তিনি। তার কলস প্রতীকের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এই আসনে বিএনপি পুনর্জীবন পাবে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, নাটোর -১ আসনে এবার এক লাখের কম ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার সম্ভাবনা বেশি। আর ভোটের ফল নির্ধারণ করবেন আওয়ামী ভোটাররা। ভোট কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি ও প্রার্থী পছন্দের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। তাই তাদের ভোট টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টায় আছেন সব প্রার্থী।

স্থানীয়রা জানান, ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ায় দলীয় ভোট বেশি পাবেন পুতুল। উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটির অধিকাংশ নেতা তার পক্ষে থাকলেও পূর্বে বহিস্কৃত ও ত্যাগী নেতাদের অধিকাংশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর পক্ষে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পুতুলের মনোনয়নের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আপন বড় ভাই ডা. মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদ সম্প্রতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সমর্থন জানিয়েছেন ছোট বোন পুতুলকে।

কিন্তু সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় তার অধিকাংশ নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। এতে ধানের শীষের প্রার্থীর একচেটিয়া বিজয় প্রায় অসম্ভব। এদিকে দেড় বছর ধরে পরিকল্পিত ছকে নির্বাচনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় শৃঙ্খলা ও বিএনপির অনৈক্য তাদের দিচ্ছে বাড়তি সুবিধা।

সূত্রমতে, এই আসনে জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী সমর্থক আছে প্রায় ৩০ হাজার। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে বিএনপির ২’শ সমর্থক ও আওয়ামী লীগের এক থেকে দুই শতাংশ সমর্থকের ভোট মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার ভোট নিশ্চিত বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বর্তমানে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার ভোট পেতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট পরিবারকে কাছে টানতে তারা কাজ করছেন। সব প্রার্থী নিজেদের জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী হলেও অপেক্ষা করতে হবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত। তবে সব মিলিয়ে হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত।