মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): সরাইলে রাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল দেওয়ার আগে সরাইল অন্নদা মোড় থেকে উস্কানি মূলক স্লোগান দেওয়ার নিয়ে।
সরাইল উপজেলা বিএনপি ও স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা সমর্থকদের'কে ঘিরে সরাইলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তাকে বাধা দেয়া হয় এবং পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
রাতে বারোটার আগে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা একটি মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন। উনার কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এই সময়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে স্লোগান দিতে দিতে একটি মিছিল শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন।
জায়গা স্বল্পতা এবং দুই পক্ষের সমর্থনের ফুল'কে আগে দেবে। এই নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কা'ধাক্কি শুরু হয়। এই সময় স্লোগানদেন, সরাইলে"র দালাল'রা হুশিয়ার, অন্যরা আওয়ামী লীগের দালাল"রা হুশিয়ার, হুঁশিয়ার সাবধান।
এসব বলে শ্লোগান দিতে থাকে। দুরপক্ষের উস্কানিমূলক এই স্লোগানই একসময় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিওতে দেখাযায়, রাত পৌনে ১২টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রস্তুতিকালে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। সরাইল উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, কোনভাবে আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এখানে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আওয়ামী লীগ পূর্ণবাসন করার চেষ্টা চলছে তা আমরা প্রতিহত করব।
এদিকে ভিডিও ফুটেছে দেখা যায়, সরাইল উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, সরাইলে বিএনপি ছাড়া অন্য কারো অবস্থান নাই। আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরাইলে অবস্থান নেওয়া এত সহজ না।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান রুমিন ফারহানা।তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজে বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে।তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।
দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ বিষয়ে জানতে চাও হলে, সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, এ অকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে পরিবেশ শান্ত রাখাতে" আপনারা দেখেছেন" আমরা করেছি।ওসি বলেন,এ ঘটনা লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত