লালপুরে কলমের ভীড়, বিশ্বাসের সংকট —সংখ্যা বাড়ছে সাংবাদিকের, মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ , ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ফাইল ছবি।

সালাহ্ উদ্দিনঃ লালপুরে এখন সকালে চায়ের দোকানে ঢুকলেই শোনা যায় “আমি সাংবাদিক”, ইটের ভাটায় সাংবাদিক, বালুর ঘাটে সাংবাদিক, বিকেলে মাঠে-ময়দানেও আবার অনেকজন পরিচয় দেন । গত একদশকে উপজেলাটিতে সাংবাদিকের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তাতে মনে হয় তথ্যের বন্যা বইবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

এক সময় লালপুরে হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন। তাঁরা ছিলেন পরিচিত মুখ, নামের সঙ্গে ছিল আস্থা। খবর প্রকাশের আগে দিন-রাত মাঠে ঘুরে তথ্য যাচাই করা ছিল নিয়ম। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ আর ইউটিউব চ্যানেলের ছড়াছড়িতে সাংবাদিক হওয়া যেন খুব সহজ এক পরিচয়।

ফলে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ বা নৈতিকতার প্রশ্ন অনেকটাই আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আজকাল খবরের চেয়ে গুজব দ্রুত ছড়ায়। কোনো ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রায় দেওয়া হয় শিরোনামে। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ, কখনো রাজনৈতিক পক্ষপাত—এসবও ঢুকে পড়ছে সংবাদের ভেতরে।

এতে সাধারণ মানুষ যেমন বিভ্রান্ত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান। লালপুর বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আগে খবর পড়ে বুঝতাম সত্যটা কী। এখন এক ঘটনা নিয়ে পাঁচটা পোর্টালে পাঁচ রকম কথা লেখা থাকে। কোনটা বিশ্বাস করব?” তাঁর এই প্রশ্নই যেন বর্তমান সাংবাদিকতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

তবে পুরো চিত্রটা অন্ধকার নয়। এখনো কিছু সাংবাদিক আছেন, যাঁরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পেশাদারিত্ব ধরে রেখেছেন। ঝুঁকি নিয়েও তাঁরা তথ্য যাচাই করেন, দুই পক্ষের কথা তুলে ধরেন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। কিন্তু সংখ্যার চাপে তাঁদের কণ্ঠ অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শুধু সাংবাদিক বাড়লেই চলবে না, বাড়াতে হবে দায়িত্ববোধ। প্রশিক্ষণ, নৈতিকতার চর্চা এবং সম্পাদকীয় তদারকি ছাড়া সাংবাদিকতা কখনোই শক্ত ভিত পায় না। পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে—ভালো কাজকে স্বীকৃতি আর ভুলের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে।

লালপুরের সাংবাদিকতার এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা তাই খুব সাধারণ—আমরা কি শুধু খবর চাই, নাকি বিশ্বাসযোগ্য খবর চাই? সংখ্যার উল্লাস ছেড়ে যদি মানের দিকে ফিরে তাকানো যায়, তবেই লালপুরে আবারও কলমের শক্তিতে ফিরবে মানুষের আস্থা ।