কমলগঞ্জে রোগে কাবু শিশু ও বৃদ্ধরা,মেঝেতেও মিলছে না ঠাঁই

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ , ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগী বেড়েছে। তাই হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়। বারান্দায় মেঝেতে রেখেও রোগীদের চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী)দুপুরে হাসপাতালে গেলে এই দৃশ্য চোখে পড়ে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সীতে কর্মরত ডাক্তার মিনহাজ বলেন, রোগীর চাপ খুবই বেশী। এদের বেশীর ভাগই ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত। তাদের অনেককেই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে তবে,যে সব রোগীর অবস্থা বেশী খারাপ তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে দেখা যা নারী ও পুরুষ রোগীদের দীর্ঘ লাইন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে কর্মরত ডাক্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিনই রোগীর ভীড় বাড়ছে। আমরা অনেক কষ্ট করে রোগীদেরকে সেবা দিচ্ছি। পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় অতিরিক্ত সময়েও ডিউটি করতে হয়।

কমলগঞ্জ সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার হাসপাতালের পুরনো ভবনের ২য় তলায় ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এখানে ২টি কক্ষে ১৬টি করে ৩২টি শয্যা রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এতে ভর্তি ছিল ৫৬ জন রোগী। এদের মধ্যে ৩০জন শিশু,১১জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রোগী ভর্তি আছেন।

এখানে ৬ জন নার্স ও ৪ জন ডাক্তার পালাক্রমে চিকিৎসা দেন।
শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা মার্জিনা আক্তার বলেন, হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝের এক কোণে বিছানা পেতে শিশুকে নিয়ে থাকছেন তিনি। এতে আরও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অবশ্য শুধু মর্জিনাই নয়, তার মতো আরো শিশু ও বয়স্ক রোগীদের জায়গা হয়েছে মেঝের বিছানায়। সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার বেশী রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। তাদের বেশীর ভাগই নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও শ্বাসতন্ত্রজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তীব্র শীতের কারনেই এসব রোগে আক্রান্তÍ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতালের আরএমও সাজাদেুল কবির বলেন, স্বল্প জনবল দিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেঝে ভর্তি হওয়া রোগীদের স্যালাইন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া শেষে কিছুটা উন্নতি হলে বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের নার্স জোসি বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু এখানে ভর্তি রয়েছে। শিশুদের নিরাপদে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। রোগীর ভিড় থাকছেই প্রতিদিন। এদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ। তিনি অরো বলেন,হাসপাতালে জনবলসংকট রয়েছে। এরপরও সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যত দ্রæত সম্ভব রোগীদের সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে রোগী কমে যাবে।