নবীনগরের জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে কেউ পাস করেনি!

প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ , ১৮ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম হতাশা।ছবি- কালের বিবর্তন।

জামাল হোসেন পান্না,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারের (২০২৫) এইচএসসি পরীক্ষায় একজনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে

গত (১৬ অক্টোবর ২০২৫) কুমিল্লা মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শামছুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৪৮.৮৬ শতাংশ হলেও জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার শূন্য। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত ৬টি জেলার ১৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৯ হাজার ৫৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মধ্যে ৪৮ হাজার ৬৫৭ জন পাস করেছে। জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, কিন্তু কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষক সংকট, একাডেমিক দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবই ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ গোলাম সাদেকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নবীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষক-স্বল্পতা ও একাডেমিক দুর্বলতাই এ ফলাফলের মূল কারণ।

আমরা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাইব। কোনো গাফিলতি পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি এনটিআরসিএ থেকে এই প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন,ফলাফল বিশ্লেষণ করে শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এসব দুর্বল প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক তদারকি বাড়ানো ও শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।