• দেশজুড়ে প্রধান সংবাদ
  • কমলগঞ্জের ৭টি বাঁশ মহাল ইজারা না হওয়ায় পাচার ও বিনষ্ট হচ্ছে : সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে

কমলগঞ্জের ৭টি বাঁশ মহাল ইজারা না হওয়ায় পাচার ও বিনষ্ট হচ্ছে : সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ , ৮ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বনের অধীনে ৭টি বাঁশমহাল ইজারা হচ্ছে না একদশক ধরে। বাঁশমহাল ইজারা না হওয়ায় চোরাকারবারিরা দিবারাত্রী গাড়ি বোঝাই ও নদী পথে বাঁশ পাচার করছে। এছাড়া মহালে ও পঁচে বিনষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বাঁশ। এতে বনবিভাগের বন কর্মকর্তা,কর্মচারী ও পাচারকারীদের চলছে পোয়াবারো। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বছরের পর বছর।

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বড় রেঞ্জ হচ্ছে রাজকান্দি। রাজকান্দি বন রেঞ্জের অধীনে কুরমা,আদমপুর ও কামারছড়া বনবিট। বিটগুলোর মধ্যে আদমপুর ও কুরমা বনবিটে রয়েছে বাঁশমহাল। এসব বিটের লাউয়াছড়া, চম্পারায়, বাঘাছড়া, ডালুয়াছড়া, কুরমাছড়া, সোনারাইছড়া, সুনছড়া বাঁশমহাল রয়েছে। বাঁশ মহাল সমূহে বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণে বাঁশ রয়েছে। ফি বছর মহালগুলো ইজারা দিয়ে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতো।

তবে গত একদশক ধরে বাঁশমহাল ইজারা হচ্ছে না। দর কমানোর অজুহাত ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্য ইজারাদাররা সিন্ডিকেট করে মহাল নিলাম নিচ্ছেন না। এতে একদিকে বাঁশঝাড়ে বাঁশ পঁচে ও মরে বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিনিয়ত পিকআট,ট্রাক ও ঠেলাগাড়ি যোগে বাঁশ পাচারের ঘটনা ঘটছে। ফলে বন বিভাগের স্থানীয় কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠছে এবং সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

আদমপুর ও কুরমা বনবিট এলাকায় বসবাসরত কয়েকজন বাসিন্দা নিজেদের নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, আগে যেভাবে মহাল থেকে বাঁশ চুরি হয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবে এখনো বাঁশ চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাক,পিকআপ,ঠেলাগাড়ি ও নদী পথে মহাল থেকে বাঁশ পাচার হচ্ছে। স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা,বনবিট কর্মকর্তা ও অফিসের যোগসাজসে বাঁশ পাচার হয়।

কেউ অভিযোগ জানালে বনবিভাগ এগুলো বাড়ি-ঘরের বাঁশ বলে তারা চালিয়ে দেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বনে বাঁশের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাঁশ ও বেত মহালকে টিকিয়ে রাখতে হলে বন বিভাগকে এখনই শক্ত অবস্থানে যেতে হবে।

জানা যায়,ইতিমধ্যে রাজকান্দি রেঞ্জের ৭টি বাঁশ মহালের বেশির ভাগ কেটে নেওয়া হয়েছে। বাঁশের পরিত্যক্ত অংশ রেখে মূল্যবান অংশ বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, একসময় মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকার বাঁশ বৈধ ভাবে বাঁশমহাল ইজারা দেওয়া হতো। সেই বাঁশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হতো। সরকারের রাজস্ব আয় হতো। তবে কয়েক বছর ধরে বাঁশমহাল ইজারা দেওয়া কমে গেছে। চলতি বছর একটি মহাল ও কেউ ইজারা নেয়নি। মহালে পর্যাপ্ত বাঁশ না থাকায় এ পরিস্থিতি বলে জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি সালেহ সোহেল বলেন, বাঁধা ছাড়াই বাঁশ চুরি করে বিক্রি করা যায়, এ জন্য কেউ ইজারা নিতে চান না। তিনি আরো বলেন, চুরি করে বাঁশ বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সময় থাকতে পদক্ষেপ না নিলে বন, বাঁশ, গাছ, বেতসহ বনের প্রাণী কিছুই পাওয়া যাবে না।

বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিলেট বন বিভাগের আওতায় গত ২০ এপ্রিল ২০২৫-২৬ সালের জন্য বাঁশমহালের দরপত্র আহ্বান করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেট বন বিভাগের হালনাগাদ তালিকাভুক্ত কোনো মহালদার এই দরপত্রে সাড়া দেননি।

সুত্রটি আরো বলেন, বিগত সময়ে মহালদারেরা প্রতিযোগিতা করে প্রতিটি বাঁশ মহালের সরকারি দরপত্রের কয়েক গুণ বেশি দরপত্র হাঁকিয়েছেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী বাঁশমহালের মূল্য বেড়ে যায়। অনেকেই বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে দরপত্রে অংশ নিলেও ইজারা নেননি। আবার কিছু মহালে মামলার মাধ্যমে জটিলতা সৃষ্টি করা রাখা হয়েছে।

গত বছর দুটি মহাল ইজারা দেওয়া হলেও এ বছর কোনো মহাল ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাঁশমহালের কয়েকজন সাবেক ইজারাদার বলেন,একটি বাঁশ আমরা ২০ টাকায় বিক্রি করি অথচ দরপত্রের মাধ্যমে দেখা যায় এই বাঁশ আমাদের ক্রয়মূল্য, বিক্রি মূল্যের চেয়ে বেশি। এ জন্য কেউ বাঁশমহাল ইজারা নিতে চান না।

মৌলভীবাজার বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক নাজমুল আলম বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাঁশমহালগুলো ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না। বাঁশমহালে কি পরিমাণ বাঁশ আছে, তা পরিমাপ করছে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগ। রিপোর্ট পাওয়ার পর যেসব মহাল ইজারা দেওয়া যাবে, সেগুলো ইজারা দেওয়া হবে।