জামাল হোসেন পান্না,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্কুল চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা রেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নতুন সিনিয়র সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বরণ করতে যাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় সচেতন মহল এবং অভিভাবক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সদ্য যোগদান করা সিনিয়র সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মাজহারুল হুদা-কে বরণ করে উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে শিক্ষক বাবুল আহমেদ সরকার-এর ফেসবুক পোস্ট থেকে।তার পোস্টে লেখা হয়— “নবীনগর উপজেলায় আগত সিনিয়র সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মাজহারুল হুদা আজ নবীনগরে যোগদান করেছেন। উনাকে নবীনগরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন।”
তবে পোস্টটি প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন উঠেছে—যখন স্কুল খোলা, তখন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে না থেকে অফিসে বরণ করতে গেলেন কেন? বরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা ছিলেন—১. বাবুল আহমেদ সরকার (ফেসবুক পোস্টকারী) – মেরকুটা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,২. মো. মনির হোসেন – গোপালপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩. আব্দুল্লাহ আল শাহজাদা – বীরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪. গোলাম মোস্তফা – আলমনগর মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
৫. কামাল হায়দার মাশরেকী – হাজীপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬. রাশিদা আক্তার – নবীনগর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৭. মনিরুল ইসলাম কালন – চুউরিয়া উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৮. আবু কাউসার – সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন— “আমাদের সন্তানরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না পেয়ে সময় কাটায়, আর শিক্ষকরা দায়িত্বের সময় অফিসে বরণ করতে যান এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বিশিষ্ট জনেরা বলেন বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময় শিক্ষাদান ব্যতীত অন্য কাজে যুক্ত হওয়া শিক্ষকতার পেশাগত নীতিবোধের পরিপন্থী। এটি শিক্ষার্থীদের শেখার অধিকার ক্ষুণ্ন করে।
এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাজহারুল হুদা বলেন “আমি নতুন এসেছি, শিক্ষকরা নিজেরাই এসেছিলেন।
আমি কাউকে ডাকি নাই। তবে ক্লাস ফেলে এসে উপস্থিত হওয়া নৈতিকভাবে সঠিক নয়। আমাকে কাজ করার সুযোগ দিন, দেখুন আমি কী করি।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী বলেন,শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষকরা এভাবে শিক্ষা অফিসারকে বরণ করেছেন— বিষয়টি একেবারেই ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষকরা দায়িত্বস্থল ছেড়ে অন্যত্র যাওয়া শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষকরা যদি শ্রেণিকক্ষ ফেলে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, তা শিক্ষার্থীদের ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত