জামাল হোসেন পান্না,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে ইব্রাহিমপুরে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন খন্দকার।
আজ(১১.১০.২৫) শনিবার বিকেলে ইউনিয়নের বাঁশবাজারে হারুন মার্কেটের সামনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আল আমিন খন্দকার অভিযোগ করেন,
ইব্রাহিমপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক জামাল মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে হয়রানি করছেন গ্রামের সাবেক পুলিশ কনস্টেবল ও কথিত মামলাবাজ চক্রের মূল হোতা মানিক মিয়া সরকার এবং তার সহযোগীরা — স্থানীয় কবির মেম্বার, জহর মিয়া ও হালিমা খাতুন।
তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখ বিকেলে “বাড়িতে এসি লাগানো” ঘটনাকে কেন্দ্র করে হালিমা খাতুনকে দিয়ে জামাল মোল্লা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার একটি নবীনগর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সি.আর মামলা নং-৭৩৭/২৫) চলছে।
পরে কথিত সালিশের মাধ্যমে মানিক মিয়া সরকার ও কবির মেম্বার জামাল মোল্লার কাছ থেকে মামলা প্রত্যাহারের শর্তে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ হাজার টাকা ঘোষ বাবদ আদায় করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল আমিন খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, “টাকা নেওয়ার পরও মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি, বরং আরও অর্থ দাবি করা হয়। পরে জামাল মোল্লা থানায় অভিযোগ করলে মানিক মিয়া সরকার তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানোয় আমাকে এবং জামাল মোল্লাকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে মানিক মিয়া চক্র। বর্তমানে এসব মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন,মানিক মিয়া সরকার পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক অবসরে যান।
অবসরের পর তিনি গ্রামে ফিরে একের পর এক মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও অর্থ আদায়ে লিপ্ত হন। তার শিকার হয়েছেন আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে গ্রামের নিরীহ মানুষ পর্যন্ত।
আল আমিন খন্দকার আরও বলেন,“মানিক মিয়া সরকার ও তার সহযোগীরা একাধিক সময়ে ধর্ষণ মামলা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশের টাকা আত্মসাৎ করাসহ নানা অনিয়মে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান—আমার ও জামাল মোল্লার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমাদের হয়রানি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং মানিক মিয়া সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত