নওগাঁয় রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে জিএপি সনদ পেলেন সোহেল রানা

প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

সোহেল চৌধুরী রানা, সাপাহার (নওগাঁ): নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার এক খ্যাতিমান ও সম্ভাবনাময় আমচাষী হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন স্থানীয় চাষি ও তরুণ উদ্যোক্তা বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক এর  উদ্যোক্তা পরিচালক সোহেল রানা।

তিনি জেলার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে রপ্তানিযোগ্য নিরাপদ আম উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন Bangladesh GAP (Good Agricultural Practices) সনদ অর্জন করেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিসে তাঁকে এই সনদ প্রদান করা হয়।

এই সনদ বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে আম রপ্তানিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) নওগাঁর উপপরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা: শাপলা খাতুন, ডিএই ডিডি অফিস নওগাঁর অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো: রেজাউল করিম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মোঃ মেহেদুল ইসলাম, সাপাহার উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো: মনিরুজ্জামান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শামসুন নাহার সুমী।

সোহেল রানা উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করছেন। সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতি কতৃক জাতীয় যুব পুরষ্কার অর্জন করেন তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।

সনদপ্রাপ্ত আমচাষী সোহেল রানা বলেন, “এই স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সহায়তা নিতে হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প, পার্টনার প্রকল্প এবং ডিএই ডিডি অফিস নওগাঁর প্রতি।”

তিনি আরও জানান, এই সনদ শুধু তার নিজের জন্যই নয়, বরং নওগাঁ জেলার অন্যান্য আমচাষীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে। নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আমের সুনাম আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সনদ অর্জনের মাধ্যমে নওগাঁ জেলার কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা।