কেন্দুয়া সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী রহস্যের ঘেরাটোপে

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মজিবুর রহমানঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়া সরকারি কলেজের ১১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগকারী হিসেবে যার নাম এসেছে, সেই এডভোকেট হাবিবুর রহমান চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, “আমি কোনো অভিযোগ করিনি। কে বা কারা আমার নাম ব্যবহার করেছে তা আমার জানা নেই। অভিযোগপত্রে যে স্বাক্ষর রয়েছে সেটিও আমার নয়।”

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকরা ভুয়া সনদপত্র ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের আমলে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে নকল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে চাকরির সুযোগ পান। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং শিক্ষার মানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

অভিযোগে নাম এসেছে ১১ জন শিক্ষকের। তারা হলেন— বদিউজ্জামান বকুল (ইংরেজি), বোরহান উদ্দীন (বাংলা), আব্দুল কাদের (বাংলা), ফারুক আহমেদ তালুকদার (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), এম এ রুবেল (হিসাববিজ্ঞান), সুমন কুমার বণিক (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), মোসাঃ সাবিকুন্নাহার (দর্শন), নমিতা পোদ্দার (দর্শন), আহম্মদ আবদুল্লাহ হারুন (উদ্যোক্তা উন্নয়ন), মোঃ শফিকুল আলম (কম্পিউটার অপারেটর) এবং বিধান কর (কম্পিউটার অপারেটর)।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক প্রফেসর এ.কে.এম আলিফ উল্লাহ আহসান ও উপ-পরিচালক ফেরদৌস আহমেদ কেন্দুয়া সরকারি কলেজে গিয়ে অভিযুক্তদের সার্টিফিকেট প্রাথমিকভাবে যাচাই করেন।

পরে সাংবাদিকদের তারা জানান, “প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে সার্টিফিকেটগুলো আবারও খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। প্রভাষক আব্দুল কাদের নয়ন বলেন, “আগেও আমাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু সত্যতা মেলেনি। এবারও আমাদের হেয় করার জন্যই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

অভিযোগকারী স্বীকার না করায় এবং স্বাক্ষর জাল বলে দাবি করায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে— কেন্দুয়া সরকারি কলেজের ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আসলে কে?