প্রত্যন্ত এলকার শিক্ষার্থীদের জন্য

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু , উচ্ছাসিত গ্রামবাসী

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
আবুল খায়ের টেকনিকেল ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের কারিগরিভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। 

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত আবুল খায়ের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের অর্থায়নে করা ট্রেনিং সেন্টারটিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে কম্পিউটার, ইলেক্ট্রনিক ও সেলাইসহ পাঁচটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি মঈদুল হোসেন মার্শালের সভপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম,নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি, শ্রম অধিদপ্তরের অবসর প্রাপ্ত পরিচালক মফিজুল ইসলাম মদন, অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসে শিতাব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী ইঞ্জিঃ মো মোজাম্মেল হক, উত্তর লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য ফারুক হোসেন ফালু, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম, বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা হেফাজত ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাসুদুর রহমান খান।

অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন মাসুদুল ইসলাম (নীল সাধু)।

ট্রেনিং সেন্টারটি পরিদর্শন করছেন প্রধান অতিথি

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কারিগরি জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন। প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা যেন কারিগরি জ্ঞান অর্জনে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্যই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে৷ এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি একসময় অত্র এলাকার জন্য আলোর দিশারী হয়ে উঠবে বলে মনে করেন বক্তারা।

বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ট্রেনিং সেন্টারে নাম ফলক উন্মোচন করেন। সেই সাথে ট্রেনিং সেন্টারের প্রতিটি ক্লাসরুম পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্লাসরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের অনুভূতি শুনেন।

এদিকে ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন হওয়ায় উচ্ছাসিত গ্রামবাসী। নিজের ছেলে-মেয়েদের কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীলতা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর লোকজন।

অনুষ্ঠানে আসা স্থানীয় কৃষক আব্দুল খালেক বলেন,
“আমাদের ছেলেরা আগে শহরে গিয়ে কাজের জন্য ঘুরে বেড়াত। এখন নিজের গ্রামেই তারা কাজ শিখতে পারবে। এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”

গৃহিণী লাইলী বেগম বলেন, “আমাদের মেয়েরা সেলাই বা কম্পিউটার শিখলে ঘরে বসেই আয় করতে পারবে। সংসারে স্বস্তি আসবে।”

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তানভীর হাসান জানায়,
“আমার স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। এখানে কম্পিউটার কোর্স শিখতে পারব বলে খুব খুশি।”

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন,
“আমরা মেয়েরা আগে শুধু পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। এখন বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিকের কাজ শিখতে পারলে ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগও বাড়বে।”