চৌগাছায় রাত পোহালেই ৪০০ বছরের ঐতিহ্য পীর বলুহ মেলা

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

শাহীন সোহেলঃ যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ মেলার সব বাধা অতিক্রম করে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবহি মেলা। ইতোমধ্যে মেলায় আসতে শুরু করেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মেলা পরিচালনায় গঠন হয়েছে কমিটি, প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছেন কর্তৃপক্ষ। অন্য যে কোন বছরের তুলনায় এ বছর মেলা ব্যাপক প্রানবন্ত হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষসহ এলাকাবাসি।

গরুকে বক বানে গাছের ডালে রাখা, সরিষা গাধার আগুন ধরিয়ে দিযলে সরিষাব পুড়ে না যাওয়া, খড়ির বদলে পা চুলায় ঢুকিয়ে দিয়ে রস জ্বাল দেওয়ার য়ত হাজারো মিথ গল্পের আবৃত চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ মেলা বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয়। অন্য বছর গুলোর মত এবছরও মেলার সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন কর্তৃপক্ষ।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে বেশ আগে ভাগেই আসতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা, এখনও দিন রাত সারাক্ষনই আসছেন ব্যবসায়ীরা। দুরের ব্যবসায়ীরা বেশ আগেই চলে এসেছেন। বলুহ মেলার অন্যতম আকর্ষন হচ্ছে কাঠের তৈরী আসবাবপত্র ও নাগরদোলা। ব্যবসায়ীরা বেশ আগেই এসেছেন দোকান প্রস্তুত প্রায় সম্পন্ন করেছেন।

মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মিকাইল হোসেন, রহমত আলী, আব্দুল্লাহ,শামছুল আলম বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই মেলাতে আসি এবং ভালো ব্যবসা করে বাড়িতে যাই। এবছরও মেলায় কাংখিত ব্যবসা হবে বলে মনে করছি। চটপটি ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, দোকান প্রস্তুত করে বসেছি এখনও দর্শনার্থী সে ভাবে আসা শুরু করেনি।

মেলা জমে উঠলে ব্যবসাও জমজমাট হবে বলে তিনি মনে করছেন। মাদারীপুর, ঢাকা, ফরিদপুর, মনিরামপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসা কসমেটিক্স ব্যবসায়ীরা বলেন, চৌগাছার বলুহ মেলায় এসে কখনও ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়নি, এবছরও ইনশাল্লাহ ভালো ব্যবসা হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে এখনও বাকি কিন্তু দর্শনার্থীরা সেখানে যাতায়াত করতে ভুল করেনি। শিশুদের হরেক রকমের খেলনা সাজিয়ে বসে গেছেন সুদুর বগুড়া জেলা হতে আসা ব্যবসায়ী লিটন হোসেন তিনি বলেন, এবছর ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।

এ দিকে বলুহ মেলা উপলক্ষে চৌগাছা উপজেলা সদরসহ এ অঞ্চলে সাজসাজ রব পড়ে গেছে। মেলার মূলস্থান উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে যেন বয়ে যাচ্ছে ঈদের আনন্দ। হাজরাখানা গ্রামের আব্দুর রহমান, মোঃ মিঠুসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে বলুহ মেলা তাদের কাছে উৎসবের একটি সময়।

এই গ্রামে অনেকে ঈদে মেয়ে জামাই দাওয়াত দিতে ভুল করলেও মেলাতে দাওয়াত দিতে ভুল করেনা। অধিকাংশ পরিবারে ইতোমধ্যে এসে গেছেন মেয়ে জামাই। অনেকে জামাই বিদায় করার জন্য কেনাকাটাও শুরু করছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে এই পবিত্র স্থানটি তারা অপবিত্র করেছে। মেলাতে নিত্যের নামে নোংরামি করা হয়েছে। সে কারনে মেলা যেন অভিশাপ হয়ে উঠে। কিন্তু গত বছরে বিএনপির নেতারা মেলা পরিচালনা করেছেন এবং খুবই সন্দর ভাবে সেই দেড় দশক আগের মতই মেলা হয়েছে। আমরা আশা করছি এ বছরও মেলা প্রানবন্ত হবে।

বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান ও সাধারণ সম্পাদক বিএম বাবুল আক্তার বলেন, পীর বলুহ মেলা যুগযুগ ধরে হয়ে আসছে। কোন মাইকিং কিংবা প্রচার লিফলেট কিছুই না ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার এলেই এখানে মানুষের ঢল নামে।

আমরা মেলা কর্তৃপক্ষ যশোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছি। সুষ্ট ও সুন্দর ভাবে মেলা পরিচালনার জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছি,কমিটির সকল সদস্যরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।