মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতি চরম অসন্তোষ বাদীর

কেন্দুয়ায় বিল থেকে উদ্ধার কঙ্কাল নিখোঁজ শামীমের দাবি করে দাফন

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মনকান্দা গ্রামের বিরানদি বিল থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটিকে নিখোঁজ সাবেক ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম শামীমের বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মনকান্দা এম.ইউ আলিম মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফনকাজ সম্পন্ন নিখোঁজ শামীমের পরিবার। এর আগে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ কঙ্কালটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

জানাজায় নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা ই জামান সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহত শামীমকে স্মরণ করে বক্তব্য দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই রাতে মনকান্দা গ্রামের আক্কাস মিয়ার ছেলে ও সাবেক ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম শামীম (৩০) নিখোঁজ হন। পরদিন থানায় জিডি করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ২৪ জুলাই আদালতের নির্দেশে ২৫ জুলাই কেন্দুয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

মামলায় মনকান্দা এম.ইউ আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। প্রধান আসামি বর্তমানে কারাগারে এবং কয়েকজন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

নিখোঁজের দুইদিনের পর শামীমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল গইচাসিয়া ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শামীমের খোঁজ মেলেনি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করেন এমন একটি লাঠি উদ্ধার হয়।

এতে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে বিরানদি বিলে কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ময়নাতদন্ত শেষে কঙ্কালটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সুজন মিয়া জানান, মাদ্রাসার বিরোধ নিয়ে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। প্রতিপক্ষের লোকজন শামীমকে হত্যার পর গুম করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শামীমের ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, কঙ্কালের গায়ে থাকা কাপড় দেখে নিশ্চিত হয়েছেন এটি তার ভাইয়ের দেহাবশেষ। তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে কেন্দুয়া সার্কেলের এএসপি গোলাম মস্তুফা বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। পরিবারের ক্ষোভ স্বাভাবিক হলেও তদন্তে কোনো গাফিলতি হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত শামীমের পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।