চরম নিরাপত্তাহীনতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকরা

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ , ২৪ আগস্ট ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাবেশ। ছবি: কালের বিবর্তন।

হয়রানিমূলক মামলা, হত্যার হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার—এমন নানা ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকরা।

রবিবার (২৪ আগষ্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব আয়োজিত এক সমাবেশে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

সমাবেশে উঠে আসে ৭০ বছর বয়সী সিনিয়র সাংবাদিক আ. ফ. ম. কাউসার এমরানের অভিজ্ঞতা।

তিনি জানান, ফেসবুকে একাধিক পোস্টে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে এবং তার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এতে তিনি এখন মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। একইভাবে সাংবাদিক আল মামুন অভিযোগ করেন, নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করলেই তাকে মিথ্যা ট্যাগ লাগানো হয়। তিনি বলেন, “আমি কখনও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু আমাকে ছাত্রলীগ নেতা বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

সমাবেশে জানানো হয়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার অন্তত ৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার অনেকগুলোই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের থানায় করা হয়। দৈনিক সমকাল এর প্রতিনিধি সজল আহমেদ গত এক বছর ধরে ঘরছাড়া জীবন কাটাচ্ছেন, যদিও মামলায় উল্লিখিত দিনে ঘটনাস্থলে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া, প্রথম আলো প্রতিনিধি বদর উদ্দিনকে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অন্তত পাঁচজন সাংবাদিককে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি সরাইলের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন গাজী টিভির প্রতিনিধি জহির রায়হান। একইভাবে, কালের কণ্ঠ এর প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু ও যমুনা টিভির মহিউদ্দিন মিশুর নামে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি মাঈনুদ্দিন রুবেল, যুগান্তর ও আরটিভির আখাউড়া প্রতিনিধি, এবং আরও অনেক সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি, মানহানি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে সমাবেশে জানানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা বলেন—

এটিএন নিউজের পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো প্রধান পীযূষ কান্তি আচার্য বলেন,“ওসি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া চাঁদাবাজির মামলা করতে পারে না। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরজু বলেন,“সাংবাদিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।

এছাড়াও দীপক চৌধুরী বাপ্পী, মোশাররফ হোসেন বেলাল, সাদেকুর রহমানসহ বহু বক্তা ফেসবুকে সাংবাদিকদের চরিত্র হনন, অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন।

এছাড়া সভায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও সভায় ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মূলধারার সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ব্যক্তিচরিত্র হননসহ চাঁদাবাজিতে জড়িত মোছাব্বির হাসান ওরফে সজীব হাসান, কথিত সাংবাদিক ও ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক আরিফ, সোহেল আহাদ ও তৌহিদুর রহমান খান নিটলসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানানো হয়।