কমলগঞ্জের টমেটো গ্রাম খ্যাত বনগাঁও গ্রামের কাঁচা রাস্তায় জন্য কৃষকদের ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ , ২৩ জুলাই ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 11 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম এখন টমেটো গ্রাম হিসেবে সমধিক পরিচিত। কয়েকশো পরিবারের বসতি এ গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ বিভিন্ন উন্নত জাতের টমেটো চাষে সারা বছর ব্যস্ত থাকেন। গ্রামটির কাঁচা রাস্তার কারনে বর্ষা মৌসুমে মানুষদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

জানা যায়,বনগাঁও গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে উঠানে টমেটো চারার নার্সারি। দেখে মনে হয় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি যেন নার্সারি। কোথাও অনাবাদি জমি নেই। পরিবারের খরচ চালাতে ও ভাগ্য বদলের আশায় নার্সারি পেশা বেঁচে নিয়েছেন গ্রামবাসী। গ্রামটিতে দুই কিলোমিটার এলাকায় কাঁচা রাস্তা।

রাস্তাটি সংস্কার না করার কারণে চারা ফসল বাজারজাত করতে নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এমনকি কৃষকদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। উৎপাদিত পন্য সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না।

এতে আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। শুধু কৃষকরাই নয়, কাঁচা রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, রুমেল মিয়া, সাইদুর রহমান, জুবেল আহমেদ, সাদ্দাম আলী, মনির মিয়া জানান, রাস্তাটি সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজর নেই। প্রতিবছর গ্রামবাসীরা স্বউদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তায় মাটি ভরাট ও সংস্কারকাজ করে থাকেন। রাস্তার কারণে গাড়ি নিয়ে দুরদুরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে পারছে না।

তাই স্থানীয় পাইকারদের কাছে কম দামে চারা বিক্রি করতে হয়।
কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল মতিন বলেন, শুধু মাত্র রাস্তার কারনে গ্রামের নার্সারী মালিকরা লোকসান গুণছেন। রাস্তা পাকাকরণ করলে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থায় বছরে কোটি টাকার চারা বিক্রি করা যেতো বলে মনে করেন।

উসমান আলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, শুধু নার্সারি নয়, সারা বছর টমেটো ও অন্যান্য সবজি চাষ করে বনগাঁও এর শতভাগ মানুষ সফল ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে গ্রামটিতে নিরব অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটে যেতো।

লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ জানান, বনগাঁও গ্রামের সব নারী-পুরুষই একেকজন কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছে। একটাই প্রতিকূলতা, ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তা। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুতই রাস্তার সংস্কার করা হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, যদি আমাদের উপজেলা পরিষদের কোন প্রকল্প থেকে করা সম্ভব হয়। আমরা উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্প দিয়ে করে কাজ করে ফেলবো। রাস্তাটি জনগুরুতপূূর্ণ রাস্তা হিসেবে বিবেচনা করে এটা আমরা দ্রুততার সহিত সম্পাদন করার চেষ্টা করবো।