
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- বেনাপোল-খুলনা-মোংলা ভায়া যশোর রুটে লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচলকারী বেনাপোল কমিউটার (বেতনা ট্রেন) বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এতে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে। আগামী ১আগষ্ট/২০২৫ ইং তারিখ থেকে এ কার্যকর চালু হতে পারে বলে বেনাপোল স্টেশন মাস্টার মো.সাইদুজ্জামান এ কথা জানিয়েছেন।
তবে, এ সম্পর্কিত প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন নির্দেশনা তাদের হাতে এসে পৌছায়নি বলেও তিনি জানান। তিন বছরের জন্য লিজ দেওয়া হচ্ছে এই রুটের ট্রেনটি।
রেলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিতে গত ২২ এপ্রিল/২০২৫ দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ মে/২০২৫ দরপত্র খোলা হয়। জুন/২০২৫ ইং মাসের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। মূল্যায়ন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হবে।
সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৭৪ সাল থেকে দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল-খুলনা-মোংলা ভায়া যশোর যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করা হয়, যা প্রায় ১১ বছর (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এরপর ট্রেনটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রথমে বেসরকারি কোম্পানি ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও পরে ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে ট্রেনটি পরিচালনা করে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী হওয়ায় ২০১৩ সাল থেকে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা হয় ট্রেনটি। লাভজনক ও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এই রুটে দিনে দুবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
প্রতিদিন সকাল ৬টায় খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে বেনাপোলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে দৌলতপুর, নওয়াপাড়া, সিঙ্গিয়া, যশোর, ঝিকরগাছা, নাভারণ স্টেশন পার হয়ে সাড়ে এই ৮টায় বেনাপোল পৌঁছায়। এসব স্টেশন থেকে ওঠা বেশিরভাগ যাত্রী ভারতে যান। পরে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেনাপোল স্টেশন ত্যাগ করে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে খুলনা পাশে নয় মোহাম্মদনগর পৌঁছায় ট্রেনটি। এই ট্রেন আবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মোংলা পৌছায়।
মোংলা স্টেশন থেকে ছাড়ে দুপুর ১টায়। বেনাপোলে পৌঁছায় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। বিকেল ৫টায় খুলনার উদ্দেশ্যে বেনাপোল ত্যাগ করে কমিউটার বেতনা ট্রেনটি।
রেলওয়ের সূত্রমতে, স্থলপথে ভারত যাতায়াতের জন্য দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল। দেশের অন্যান্য স্থান ছাড়াও খুলনা-যশোর অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই পথে ভারত-বাংলাদেশ আসা-যাওয়া করেন। অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী মোংলা, খুলনা, যশোরসহ মধ্যবর্তী শহরগুলোতে যাতায়াত করেন এই ট্রেনে চেপে।
ভাড়া বেনাপোল থেকে যশোর ২০ টাকা, খুলনা ৪৫, মোহাম্মদনগর ৫০ এবং মোংলার ভাড়া ৮৫ টাকা। এসব কারণে দিন দিন কমিউটার বেতনা ট্রেনটিতে যাত্রী বাড়ছে। সূত্র বলছে, আগের তুলনায় কমিউটার ট্রেন বেতনা থেকে সরকারি কোষাগারে বেশি টাকা জমা হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি মাসে এ ট্রেন থেকে ৩৫ লাখ টাকা আয় করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে,বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা যেভাবে জেনেছেন আমিও ওইভাবে জেনেছি। তবে লিজ দেওয়া হয়েছে কি-না আমি জানি না। এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজ আমি হাতে পাইনি।
তবে তিনি বলেন,সরকারী হিসেব অনুযায়ী ‘বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটের কমিউটার বেতনা ট্রেনটি বেসরকারি খাতে দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র’গুলো যাচাই-বাছাই করে মূল্যায়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে।
সেখান থেকে প্রশাসনিক শাখায় এখনও এসেছে কিনা জানিনা। এরপর কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হবে, সেখান থেকে সর্বোচ্চ দরপত্রদাতাকে কাজ দেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন’।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...