কেন্দুয়ার গর্বিত কন্যা রোবা : পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতিত্বের ছাপ

প্রকাশিত: ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ , ১৯ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 12 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মজিবুর রহমানঃ প্রত্যন্ত গ্রামের নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে, অদম্য মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর সাহসিকতায় নিজেকে প্রমাণ করেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বিদ্যাবল্লভ গ্রামের এক কৃতী কন্যা রেজওয়ানা আক্তার রোবা।

বাবা হাফেজ গোলাম মোস্তফার আদর্শ আর কবি রওশন ইজদানী একাডেমির শিক্ষার আলোয় গড়ে ওঠা রোবা আজ শুধু তার পরিবারের নয়, গোটা এলাকাবাসীর গর্ব।

২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের একাধিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রোবা যে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে, তা নিঃসন্দেহে অনন্য। তিনি সুযোগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে।

একাধিক গৌরবময় প্রাপ্তির মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে তার শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।

রোবার এই কৃতিত্ব শুধু তার পরিবারের নয়—খুশিতে উচ্ছ্বসিত তার আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষকবৃন্দ, সহপাঠীরা এবং পুরো বিদ্যাবল্লভের মানুষ।

কবি রওশন ইজদানী একাডেমির প্রধান শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এমন সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ নয়, সাধনাই মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। রোবার মতো শিক্ষার্থীরা আমাদের অনুপ্রেরণা। আমরা তার জন্য গর্বিত। তার সফলতা প্রমাণ করে, রোবা কেবল একজন মেধাবী ছাত্রীই নয় সে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রতীক। তার অগ্রযাত্রা হোক দীপ্তিময়। আমরা তার এই অনন্য অর্জনে তাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও অফুরন্ত শুভকামনা।

রেজওয়ানা আক্তার রোবা জানান, আমি কখনো ভাবিনি একসঙ্গে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবো। এটি সম্ভব হয়েছে আল্লাহর অশেষ রহমত এবং বাবা-মায়ের ও আমার শিক্ষকদের দোয়া অনুপ্রেরণার কারণে।

আমি চাই, গ্রামের আরও অনেক মেয়ে যেন সাহস পায় বড় স্বপ্ন দেখতে। লেখাপড়া শেষ করে আমি শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্যও কিছু করতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই।