শ্রেষ্ঠ সন্তানের সম্মান পেলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ , ২৩ জুন ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 12 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

সমাজের নিঃস্বার্থ সেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা — এমনই একজন মানুষ কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। তাঁর কর্মময় জীবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এসডিসি (সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি), বোয়ালমারী, ফরিদপুর কর্তৃক তাঁকে “শ্রেষ্ঠ সন্তান পুরস্কার” প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষা এবং মানবসেবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা শুধু পেশাগত নয়, এটি হৃদয়ের গভীরতম প্রেরণা। তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলমগীর হোসেন মডার্ন একাডেমি — একটি বিদ্যালয়, যেখানে প্রতিটি শিশুর চোখে স্বপ্ন গেঁথে দেন তিনি।

তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে, ছিলেন হরিহর নগর সিনিয়র মাদ্রাসার সভাপতি, এবং ২০১৬ সালে নির্বাচিত হন বোয়ালমারী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে। শিক্ষক নেতা হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন সাহস, সদিচ্ছা ও নেতৃত্বগুণে।

ব্যক্তি জীবনে তিনি এক পরিপূর্ণ মানুষ — একজন আদর্শ স্বামী ও নিবেদিত পিতা। তাঁর সহধর্মিনী রুমানা ইসলাম, বাগুয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এই শিক্ষাপ্রেমী দম্পতির সন্তানরাও তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত।

আদীব আলম রিওন, তাঁদের একমাত্র পুত্র, এসএসসি ও এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সাইবার সিকিউরিটি) বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

কন্যা আরিদা আলম রিনভী বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক মেধাবী শিক্ষার্থী, যিনি বাবা-মায়ের পথ অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছে নিজের স্বপ্নের পথে।

সম্মাননা গ্রহণকালে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন: “এই সম্মান শুধু আমার নয়, এটা আমার পরিবার, আমার ছাত্রছাত্রী, এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকি, সমাজের জন্য ভালো কিছু করে যেতে পারি। সবার দোয়া ও ভালোবাসাই আমার পথচলার শক্তি।”

এসডিসির এই সুন্দর উদ্যোগ শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানায়নি, বরং সমাজের কাছে তুলে ধরেছে এক মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনের গল্প — যা আরও বহু হৃদয়ে আলো জ্বালাবে।