শিক্ষার বাতিঘরে গরুর বাজার: সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়মের চিত্র

প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ , ৫ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়। যেটি প্রতিষ্ঠা করেন মরহুম মৌলভি আকামত আলী মাস্টার—একজন শিক্ষা অনুরাগী, যিনি এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আশেপাশের অন্তত দশটি গ্রামের শিক্ষার্থী প্রতিদিন এখানে আসেন জ্ঞান অর্জনের আশায়। অথচ বর্তমানে এই বিদ্যালয়টির মাঠ যেন রূপ নিয়েছে এক অনিয়ম ও দখলের প্রতীকে।

গত ১৭ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ের মাঠে বসছে গরুর বাজার। শুরুতে যদিও বাজারটি রাস্তার পাশে সীমাবদ্ধ ছিল, ধীরে ধীরে তা বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানান্তরিত হয়। মাঠে ছাত্রদের ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও এ নিয়ে কেউ তেমন উচ্চবাচ্য করার সাহস পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রক্রিয়াকে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ‘অবৈধ ও শিক্ষার প্রতি অসম্মানজনক’ বলেই মনে করেন।

একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরুর বাজার কেমন দেখায়? এখানে মানুষ শিক্ষা নিতে আসে, পশু কেনাবেচা করতে নয়।” এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে বর্তমান শিক্ষিত প্রজন্মের ক্ষোভ ও হতাশা।

বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব করিম সাহেব বলেন, “আমি স্থানীয়দের ডেকে স্পষ্ট বলেছি, গরুর বাজার করে যত টাকা আয় হবে, তা চাইলে আমিই দিতে পারি। কিন্তু তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের অজুহাত দেখিয়ে স্কুল মাঠেই বাজার করতে চায়। এর ফলে স্কুল কোনো অর্থ উপার্জন করে না, বরং মাঠ নষ্ট হয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা খেলার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি এই বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবেই বলছি—বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর বাজার চাই না।”

এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ নানা চাপ ও অনিয়মের বলি হয়ে পড়ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর মানুষ আশাবাদী হয়েছিল এমন অনিয়ম হয়তো আর চলবে না, কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা।

এই প্রেক্ষাপটে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসীরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন—এই বিদ্যালয়ের মাঠ যেন আবার ফিরে পায় তার শিক্ষার পরিবেশ, খেলার মাঠ, এবং স্বাভাবিকতা।

শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে নয়—প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করে এগিয়ে যাক দেশ।