চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন হুমায়ুন শেখ — কে জানত সেটাই হবে তার জীবনের শেষ সকাল? রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুন যেন এক কাপ চায়ের সঙ্গে জ্বলে উঠল রক্তের নদী হয়ে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী নেতার দ্বন্দ্বে এক নিরীহ ভ্যানচালক প্রাণ হারালেন — আহত আরও পাঁচজন।
নিহত হুমায়ুন শেখ (৪৫) ছিলেন বানিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান নবির হোসেন চুন্নুর ঘনিষ্ঠ কর্মী।
ঈদের পরদিন, শনিবার সকালে "ভাই ভাই স্টোর" চায়ের দোকানে বসে ছিলেন হুমায়ুন ও তার কয়েকজন সহকর্মী। হঠাৎই কথা কাটাকাটি হয় লিয়াকত মাস্টারের ভাই মিরাজের সঙ্গে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় ভয়াল হামলা — ২০-৩০ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত চারদিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হাতে লাঠি, রড, দা — কেউ রেহাই পায়নি। রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হুমায়ুন, তার ভাই গোলাম মোস্তফা, মেয়ে আফসানা (বেনু) এবং নাতি কদর শেখ। মেয়ের সামনে বাবাকে কুপিয়ে ফেলা হয় — এমন দৃশ্য সহ্য করতে পারেনি কেউই।
স্থানীয়রা জানান, কৃষকদলের সভাপতি লিয়াকত মোল্যার দলে থাকা ৭০-৭৫ জন ঈদের আগে দল ছেড়ে চুন্নুর দলে যোগ দেন হুমায়ুনের মাধ্যমে। আর তাতেই ‘অপরাধী’ হয়ে ওঠেন হুমায়ুন শেখ। স্বজনদের দাবি, তাকে টার্গেট করেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
হুমায়ুন শেখের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দিল — রাজনীতি শুধু মতাদর্শ নয়, কোনো কোনো সময় তা হয়ে ওঠে নির্মম মৃত্যু পরোয়ানা।
চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে বানিয়ারী গ্রাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে প্রাণ হারান হুমায়ুন।
দুপুরে তার মরদেহ যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামে আসে — আকাশ যেন নিঃশব্দে কাঁদে, মা-বোনের বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে পুরো জনপদ।
হুমায়ুনের মেয়ে আফসানা বিলাপ করে বলে, > “চোখের সামনে আমার বাবাকে ওরা কুপিয়ে মারলো। আমাদের অপরাধ কী ছিল? শুধু দল বদলানোই কি তার জন্য মৃত্যুদণ্ড?”
স্বজনদের দাবি — “আমরা শুধু বিচার চাই না, চাই ফাঁসি — এই খুনিদের একটাকেও যেন ছেড়ে না দেওয়া হয়।”
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, “এখনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত