আজ বাবা দিবস। কিন্তু আমার বাবার নেই কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, নেই স্মার্টফোন, নেই ডিজিটাল দুনিয়ায় বিচরণ। আছে শুধু কিছু প্রিয় স্মৃতি, কিছু অসমাপ্ত কথা আর বুকভরা শূন্যতা।
আমার বাবা মোঃ মিছির উদ্দীন শাহ্ চৌধুরী—নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার চৌধুরী পাড়ার এক প্রভাবশালী, প্রিয় এবং পরোপকারী মানুষ ছিলেন। জমিদার ঘরানার উত্তরসূরি হয়েও তিনি ছিলেন বিনয়ী, নির্লোভ ও সহজ-সরল। পৈত্রিকভাবে পাওয়া অনেক সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি রেখে যেতে পারেননি তেমন কিছু, কারণ জীবদ্দশায় তিনি বহু গরিব-ভূমিহীন মানুষকে বসবাসের জমি দিয়েছেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সামাজিক কল্যাণের নানা উদ্যোগে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হয়। বিশেষ করে, সাপাহার সরকারি কলেজের প্রায় ১০০ বিঘা জমির দাতাদের মধ্যে তাঁর নাম এখনো ১২ নম্বরে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
তিনি শুধু একজন দানবীর ছিলেন না, ছিলেন আমাদের জীবনের ছায়া—আলো ও সাহসের উৎস। তাঁর শিক্ষাদীক্ষা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম আর ভালোবাসা আমাদের রক্তে মিশে আছে।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। রেখে যান চার ছেলে, এক কন্যা, একজন স্ত্রী এবং অসংখ্য গুণমুগ্ধ মানুষ। তিনি আমাদের জন্য জমি বা ব্যাংক ব্যালান্স না রেখে গেছেন যে গৌরব, সম্মান ও আত্মমর্যাদা—তাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
আজকের দিনটি তাই কেবল স্মরণ নয়, প্রণতিরও। এমন সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই—যাঁরা নিঃশব্দে পরিবার ও সমাজের জন্য কাজ করে গেছেন। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের সময় দিন, পাশে বসুন, কথা বলুন। কারণ একদিন কেবল একটি কবর থাকবে, কিন্তু থাকবে না বাবার সেই আশ্বাসময় কণ্ঠস্বর।
আমার বাবার স্মৃতির প্রতি নীরব প্রণাম।
আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।
আমিন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত