মহাসড়ক ইজারা দিলো কে?

ত্রিশালে পৌর ইজারাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ , ২৬ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 11 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

ইমরান হাসান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ত্রিশালে দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের মহাসড়ক ইজারা দিলো কে? এনিয়ে সাধারন জমগনের ধুম্রজাল। পৌরইজারাদার বলছেন, পৌরসভা থেকে নিয়েছেন মহাসড়ক ইজারা। বসিয়েছেন অবৈধ ফলের দোকান।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের একাংশ যেন রীতিমতো ব্যক্তিমালিকানাধীন বাজারে রূপ নিয়েছে।

মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক ফলমূল ও বিভিন্ন পণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান। আর এসব দোকান থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করছেন পৌর বাজার ইজারাদার শহীদ মিয়া, যার বিরুদ্ধে উঠেছে ‘চাঁদাবাজি’র গুরুতর অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা এসব দোকান থেকে এককালীন ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে ইজারাদারের পক্ষ থেকে। এছাড়া সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আদায় করা হচ্ছে আরও ৫০ টাকা করে। এছাড়াও অবৈধ ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার থেকে প্রতিদিন বিক্রেতাভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ফলে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদার ও তার একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযানের নামে মাঝে মাঝে লোকদেখানো উচ্ছেদ হলেও কিছু সময় পরেই আবার দোকানগুলো বসে পড়ে। এতে করে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ফল ব্যবসায়ী জানান, “প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান আসে, আবার চলে যায়। কিছু সময় দোকান বন্ধ থাকলেও পরে শহীদের লোকজন এসে বলে টাকা দিয়ে আবার বসে পড়ো। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।” এক বৃদ্ধ দোকানি বলেন, “গত ৪০ বছর ধরে এই মহাসড়কে দোকান বসতে দেখছি। কেউই আমাদের তাড়াতে পারেনি।”

নজরুল কলেজ মার্কেটর রাজধানী হোটেলের সত্যাধিকারী গোলাম মোস্তফা আজকের পত্রিকাকে বলেন, “এসব অবৈধ দোকানের কারণে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে যেয়ে গাদাগাদির কারণে এখানে নিয়মিত চুরি-ছিনতাই হচ্ছে। অনেক সময় নারীরা পড়ছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। প্রশাসন যদি চাই তবে আমরা বৈধ ব্যবসয়াীরা প্রয়োজনে মাসে ত্রিশ হাজার টাকা তুলে দেবো, যদি প্রশাসন আনসার বা পুলিশ নিয়োগ করে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রিশাল পৌর বাজার ইজারাদার শহীদ মিয়া প্রথমে দাবি করেন, তিনি মহাসড়ক ইজারা নিয়েছেন। তবে এককালীন টাকা আদায়ের প্রশ্নে সঠিক উত্তর না দিয়ে জানান, “প্রতিদিন ২০ থেকে ৫০ টাকা করে দোকান থেকে নিই, তবে কোন জায়গা ইজারার আওতায়, কোনটা নয়—এটা জানি না। পৌর প্রশাসক জানেন।”

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, যেহেতু মহাসড়ক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায়, তাই এই জায়গা পৌর ইজারাদারের ইজারাভুক্ত হওয়ার কথা নয়। অথচ এখানেই চলছে দাপটের সঙ্গে অর্থ আদায়, আর প্রশাসন রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

জনদুর্ভোগ, যানজট ও চাঁদাবাজির এই দুষ্টচক্র ভাঙতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরদারি না থাকলে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমার কোনো আশা নেই বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

এবিষয়ে ত্রিশাল পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, “পৌরসভা থেকে মহাসড়ক ইজারা দেওয়া হয়নি। পৌর ইজারাদার শহীদকে  আমার অফিসে কয়েকবার ডেকে নিয়ে আসছি। সে বলছে সে ফলের দোকান থেকে টাকা তুলে না। অন্যকেউ এ কাজটি করছে, আমিও খোঁজ নিচ্ছি। আমি দ্রুতই মহাসড়কের পাশের দোকান উচ্ছেদ করবো।”