হুমকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ

কেন্দুয়ায় দেদারছে ব্যবহার হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ , ২৪ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 12 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মজিবুর রহমান, নেত্রকোনাঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলাসহ আশপাশের হাওড়াঞ্চলে এ মৌসুমে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল।

এই জাল দেদারছে ব্যবহার করে ধরা হচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিলের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এই জালের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে, যা দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

স্থানীয়রা জানান, চায়না দুয়ারী জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে কোনও মাছই রক্ষা পাচ্ছে না। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বোয়াল, রুই, কাতলা, মাগুর, কৈ, টাকি, শিংসহ বহু মূল্যবান মাছের প্রজাতি আজ বিলুপ্তির পথে।

কেন্দুয়া উপজেলার মাছুয়াইল বিল, কালিয়ান বিল, জালিয়া হাওড়সহ বিভিন্ন বিল ও খালবিলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোয় প্রকাশ্যে এই জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা অনিয়মিত এবং অপ্রতুল বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা।

তাঁদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই হাওড়াঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ চরম সংকটে পড়বে। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং চায়না দুয়ারী জালের আমদানি ও ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন।

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম বলেন,“শুধু অভিযান চালালেই চলবে না। দরকার গণসচেতনতা তৈরি, বিকল্প পদ্ধতির প্রণোদনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।”

সাংবাদিক শাহ আলম জানান,চায়ানা দুয়ারী জালের ব্যবহার যে হারে ছড়িয়ে পড়ছে সামনে দিনে খুব বিপদজনক। তাই
দেশীয় মাছ রক্ষায় এখনই প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। না হলে হারিয়ে যাবে বহু পরিচিত ও পুষ্টিকর দেশীয় মাছ। যে মাছ একসময় ছিল বাংলার নদ-নদীর অহংকার।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন,আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ইতিমধ্যে একাধিক অভিযান চালিয়ে অনেক জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। খুব শিগগিরই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।