কেন্দুয়ায় পরিবহনের ঈদ যেন শেষ হওয়ার নয়

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ , ১৩ জুন ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 12 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মজিবুর রহমানঃ ঈদের ছুটি প্রায় শেষ। সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে কাল বা পরশু। অথচ এখনও কর্মস্থলমুখী মানুষের যাত্রা শেষ হয়নি। কেন্দুয়া থেকে চট্টগ্রাম ও রাজধানীমুখী যাত্রীদের যাত্রাপথে দেখা যাচ্ছে দুর্ভোগ আর বিশৃঙ্খলা—যা ঈদের আনন্দকে রূপ দিয়েছে বিষাদে।

প্রত্যেক ঈদের পর যাত্রীরা কমবেশি ভোগান্তির শিকার হন। তবে এবারের ভিন্ন প্রেক্ষাপটেও দুর্ভোগের মাত্রা কমেনি। বাসের সংকট, দ্বিগুণ ভাড়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা—সব মিলিয়ে মানুষের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে দুঃসহ।

যাত্রীরা জানান, অনেক বাসে ভাড়া নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। প্রশাসন অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে থাকলেও বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা খুবই কম।

সিএনজি ও অটোরিকশার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সুযোগ বুঝে তারা ভাড়া আদায় করছে নিজের ইচ্ছেমতো। নির্ধারিত স্টপেজ না থাকায় মূল সড়কে যাত্রী ওঠানামা হচ্ছে, যার ফলে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেন্দুয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।

বিভিন্ন স্থানে যানজটে আটকে পড়া মানুষরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঈদের সময় বাড়ি যাওয়া যতটা আনন্দের, ফেরার সময় যাত্রাটা হয়ে ওঠে যন্ত্রণার।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাসচাপায় এক ব্যক্তি এবং অটোরিকশার ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকদের বেপরোয়া আচরণ ও সড়কে নজরদারির ঘাটতি এর জন্য দায়ী।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—‘পরিবহনের ঈদ’ আর কতদিন চলবে?

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, কর্মস্থলমুখী মানুষের যাত্রাকে যেন করা হয় নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নিয়মতান্ত্রিক। একইসঙ্গে পরিবহন খাতের অনিয়মের লাগাম টেনে ধরা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।