সাপাহারে আম মৌসুমে যানজট নিরসনে ইউএনও’র উদ্যোগ, মাইকিং করে উচ্ছেদ নির্দেশ

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ , ১৫ মে ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

সোহেল চৌধুরী রানা, সাপাহার (নওগাঁ): নওগাঁর সাপাহারে আম মৌসুমে সৃষ্ট তীব্র যানজট কমাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ। চলতি আম মৌসুমকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

বিগত কয়েক বছর ধরে আম মৌসুমে সাপাহার বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছিলেন।

এবারের মৌসুমে এ সমস্যা নিরসনে বৃহস্পতিবার থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মূল সড়কের উভয় পাশে ১০ ফুট করে জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করতে নির্দেশনা দেন ইউএনও। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এসব দখল না ছাড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

জানা গেছে, থানা রোডের গাছহাটি থেকে জিরো পয়েন্ট, তাজপুর, ডাঙ্গাপাড়া, আগ্রাদ্বিগুণ রোডের তেতুলতলা এবং গোডাউনপাড়া হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সব প্রবেশ পথে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ মেইন রোডের পাশে দুই দিকের ১০ ফুট করে খালি রাখতে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। এছাড়া বাজারে দফায় দফায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে অবহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসী জানায়, আমের মৌসুমে অবৈধ দখলের কারণে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অবশেষে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এবারের আম মৌসুমে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ বলেন, “আম মৌসুমে সাপাহারে প্রচুর মানুষ ও যানবাহনের চাপ পড়ে। এতে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, রোগী, নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

আমরা চাই, সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন। এজন্য মূল সড়কের দুই পাশে ১০ ফুট জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা শুরুতে মাইকিং ও কাউন্সেলিং করছি। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”