
মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই তিন শতাধিক গ্রামের কাঁচা রাস্তা পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগের প্রতীকে। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে গ্রামীণ সড়কগুলো এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, বৃদ্ধ ও খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে প্রতিদিন ভোগান্তির চিত্র একই রকম। স্কুলগামী শিশুরা যেতে পারছে না বিদ্যালয়ে, অসুস্থ রোগীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না হাসপাতালে, কৃষকরা মাঠের ফসল তুলতে পারলেও বাজারে পৌঁছাতে পারছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, বাধাগ্রস্ত কৃষি ও খামার : কেন্দুয়া উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য গরুর খামার, বয়লার খামার, মাছের পুকুর, ফল ও সবজির বাগান। কিন্তু বেহাল রাস্তায় এসব পণ্য পরিবহন করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পাকা রাস্তার অভাবে বছরের পর বছর তাদের উৎপাদনের সঠিক মূল্য মিলছে না।
বেহাল সড়কের তালিকা দীর্ঘ:
বর্ষা শুরু হতেই উপজেলার বিভিন্ন সড়কে কাদার স্তর জমে হাঁটা-চলা পর্যন্ত দায় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাঁচা ও বেহাল সড়কগুলো হলো রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন: চেংজানা-বঙ্গবাজার, রোয়াইলবাড়ি বাজার-ফতেপুর, ফতেপুর-আমতলা-আতকাপাড়া
সান্দিকোনা ইউনিয়ন: পাইমাস্কা গুচ্ছগ্রাম-আলমপুর, বালুচর-বিরামপুর মিতালী স্কুল, ডাউকী-আলমপুর
গন্ডা ইউনিয়ন: মনকান্দা-বৈষ্যপাট্টা
গড়াডোবা ইউনিয়ন: বাশিহাটি বাজার-ভূঁইয়া বাজার, ওয়াই বাজার-বাঁশহাটি
দলপা ইউনিয়ন: রামনগর, দলপা, জল্লী-ধনিয়াগাঁও
আশুজিয়া ইউনিয়ন: সিংহেরগাঁও-ইঢাহোতা, আশুজিয়া-হাসুয়ারী
বলাইশিমূল ইউনিয়ন: কামারগাঁও
কান্দিউড়া ইউনিয়ন: গোগবাজার-জালালপুর, জামতলা-জহরপুর
চিরাং ইউনিয়ন: ধোপাগাতী-সাগুলী-মনাটিয়া, বাট্রা
দুল্লী ইউনিয়ন: বৈরাট বাজার-রোয়াইলবাড়ি
মোজাফরপুর ইউনিয়ন: হারুলিয়া, চারিতলা-নয়াপাড়া-মহুরিয়া, বানিয়াগাতি
নওপাড়া ইউনিয়ন: দুর্গাপুর-বড়কান্দা, কোনাপাড়া-পাঁচার, ইটাচকি সড়ক
এলজিইডির হিসাব বলছে, সমস্যা প্রকট:
কেন্দুয়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় জানায়, উপজেলার মোট ৭১১ কিলোমিটার রাস্তায় নিবন্ধিত সড়ক রয়েছে ২৯৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২৫০ কিলোমিটারের মতো পাকা, বাকি সবই কাঁচা। টানা বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে ভরে গেছে এসব রাস্তা, যেখানে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ, দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে প্রায় প্রতিদিন।
স্থানীয়দের দাবি ও ক্ষোভ:
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরমে ওঠে। কাঁচা রাস্তাগুলো রক্ষা করতে বর্ষায় হ্যান্ডট্রলি ও ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইটাহোতা গ্রামের বাসিন্দা সঙ্গীত শিল্পী আবুল বাসার বলেন, “আমরা বছরজুড়ে ভোগান্তিতে থাকি, বর্ষা এলেই সেই কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না, স্কুলে বাচ্চা পাঠানো সম্ভব না, হাসপাতালে রোগী নিতে ভয় লাগে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণ জরুরি। ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরুর দাবি তুলেছেন তারা।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান জানান,
বর্ষা যেন কেন্দুয়ার মানুষের জন্য দুর্ভোগের আরেক নাম। কাঁচা রাস্তার উন্নয়নে প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে সুফল মিলছে না। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে, সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এলজিইডির প্রকৌশলী আল আমিন সরকার বলেন, বর্ষা শুরুর আগে বেশ কিছু রাস্তার সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট আসলে দ্রুত কাজ করা হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী