কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ সড়ক সংস্কার

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ , ১২ মে ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

আব্দুর রাজ্জাক,কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজার গ্রামীন ব্যাংকের সম্মুখ থেকে পশ্চিম কান্দিগাঁও রাস্তাটি মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হওয়া গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি সস্কার করেছে।

জানা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কান্দিগাঁও গ্রামটি মুসলিম মনিপুরী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে শত শত মানুষের বসবাস। তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। বর্ষ শুরু হওয়ায় এখন রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। তাই শত শত মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে খোদ গ্রামবাসীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, গত রোববার সকাল থেকে অর্ধশতাধিক এলাকার প্রবীণ মুরব্বী ও যুবকরা স্বেচ্ছায় সড়ক মেরামতের কাজ করেন। তাঁরা রাস্তার পাশের কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে সড়কটিতে ফেলে মেরামত করছেন। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কে এখন হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় জনগণ আশা করেছিল নতুন পরিবেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তারা উপজেলা পরিষদে লিখিত আবেদনও জমা দেন। কিন্তু এ রাস্তায় কোনো কাজ না করে বরং তুলনামূলক ভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে আশাহত হয়ে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই রাস্তা সংস্কারে কোদাল হাতে তুলে নিয়েছে। তারা নিজেদের উদ্যোগে রাস্তার গর্ত ভরাট করছেন এবং চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লেখক হাজী আব্দুস সামাদ বলেন, রাস্তাটি ব্যবহার করে এলাকায় স্কুলগামী ছেলে-মেয়ে সহ বিপুল সংখ্যক মানুষ। বর্তমানে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী আব্দুল কাদির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত রাস্তাটিতে কারো নজর পড়েনি। স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তাটির টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহনের দাবী জানানো হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দাল হোসেন বলেন, রাস্তাটি পূর্বে একাধিক বার সংস্কার সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় রাস্তাটি বিনষ্ট হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থায়ী রাস্তা তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর গ্রামবাসীকে সেচ্ছায় সড়ক সংস্কার করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,রাস্তাটির টেকসই উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।